প্রতীকী ছবি

বেজিংঃ  সমস্ত নিষেধাজ্ঞা, হুমকি উপেক্ষা করে ফের শক্তি পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়া। নতুন করে একের পর এক মিসাইলের পরীক্ষা করে চলেছে কিমের দেশ। কখনও মাঝারি তো কখনও স্বল্পমাত্রার মিসাইলের পরীক্ষা চালাচ্ছে সে দেশ। শুধু তাই নয়, নতুন করে নিজেদের পরমাণু ঘাঁটিগুলিও সারিয়ে তুলছে উত্তর কোরিয়া। যা কিনা নতুন করে আতঙ্কের পরিবেশ গড়ে তুলেছে গোটা বিশ্বে। এই অবস্থায় রহস্যজনক এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল চিন এবং উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত। সন্দেহজনক এই বিস্ফোরণের শব্দ অনেক দূর থেকে শুনতে পাওয়া যায়। এমনকি চিনের বিস্তির্ন এলাকা পর্যন্ত এই শব্দ শোনা যায়।

শুধু তাই নয়, রহস্যজনক এই বিস্ফোরণের পরে মৃদু ভূমিকম্প হয়। চিনের ভূমিকম্প সেন্টার জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এর মান ছিল ১.৩। ঘটনাটি ঘটেছে জিলিন প্রদেশের হানচান শহরে। অনেকেই অনুমান করতে থাকে যে ফের পরমাণু পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণের বিষয়ে কোনও কিছুই জানানো হয়নি। মঙ্গলবারই চিনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফরের খবর ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই ঘোষণার ঘণ্টাখানেক প্রবল বিস্ফোরণ এবং মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা।

উল্লেখ্য, বিস্ফোরণ এবং এরপরেই ভূমিকম্প। এমন ঘটনার বহুবার সাক্ষী থেকেছে চিন এবং জাপান। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলি এই দুদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায়। যার ফলে বছরখানেক আগে যতবারই উত্তর কোরিয়া পরমাণু শক্তি পরীক্ষা করেছে ততবারই এমন মৃদু কম্পনের সাক্ষী থেকেছে দুদেশ। ফলে রহস্যজনক এই বিস্ফোরণের পরে সহজেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যে, নতুন করে কি ফের পরমাণু পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া? কিমের দেশের তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্ফোরণের উৎসের বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করায় সন্দেহ আরও জোরাল হচ্ছে সামরিক পর্যবেক্ষকদের কাছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছে না কোনও পক্ষই। তবে জানা যাচ্ছে বিস্ফোরণের উৎস খুঁজতে স্যাটেলাইটের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন স্যাটেলাইটের ছবি দেখা হচ্ছে। সত্যিই কি কোনও শক্তি পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান কিম জং উনের বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে রণং দেহী মেজাজে তিনি। ইতিমধ্যে নিজের দেশের বিজ্ঞানীদের আরও উন্নত মিসাইল তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এই অবস্থায় চিন এবং উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে বিস্ফোরণ ভাবাচ্ছে আমেরিকাকেও।