তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: অ্যামাজনের পূনঃরাবৃত্তি কি এবার আমাদের রাজ্যেও! ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের অন্যতম ‘ডেস্টিনেশান’ বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই, সর্বত্র এই প্রশ্নই এখন ঘুরে ফিরে আসছে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রথম পাহাড় থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে সন্ধ্যে নাগাদ দমকল কর্মীরা ফিরেও যান বলে খবর। ওই দিন রাতে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

সারা রাত ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। বুধবার সকালে গিয়ে দেখা গেল পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে আগুন জ্বলছে। স্থানীয় মানুষ ও বনকর্মীরা একযোগে আগুন নেভানোর কাজ করছেন। প্রায় ১২ ঘন্টা ধরে জ্বলছে এই আগুন। ছোটোনাগপুর অঞ্চলের ৪৪৮ মিটার উঁচু এই পাহাড়ে অসংখ্য গাছ গাছালির পাশাপাশি প্রচুর বনৌষধির গাছ রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে তা ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি পাহাড়ে থাকা নিরীহ জীবজন্তুরাও চরম দূরবস্থার মধ্যে।

রাতের অন্ধকার ভেদ করে পাহাড়িয়া জঙ্গলে বসবাসকারী জীবজন্তুদের আর্ত চিৎকার শোনা গেছে বলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। কিন্তু কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে আগুন লাগালো কিম্বা কিভাবেই বা এই আগুন লাগলো, বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয় কারও কাছেই। এই ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন পরিবেশ প্রেমীরা। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়েও নিন্দার ঝড় তুলছেন নেটিজেনরা।

স্থানীয় বাসিন্দা নরেন্দ্রনাথ সরেন বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানেই মানুষ এখানে আসেন। এভাবে বছরের পর বছর আগুন লাগালে আগ্রহী পর্যটকরা শুশুনিয়ার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বিট অফিসার সুজিত কুমার সিংহ বলেন, গত ন’বছর ধরে তিনি এখানে কর্মরত আছেন। চৈত্র মাসে এখানে ‘ধারা মেলা’ নামে একটি মেলা হয়। ঠিক তার আগেই কাকতালিয়ভাবে পাহাড়ের জঙ্গলে আগুন লাগে। কে বা কারা এভাবে আগুন লাগায় বিষয়টি স্পষ্ট নয় কারও কাছেই। তবে তাঁরা সবাই মিলে আগুন নেভানোর জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।