বর্ষা চট্টোপাধ্যায়: একদিকে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গি অনুপ্রবেশ, পাকিস্তানের তর্ক-বিতর্ক, অন্যদিকে কাশ্মীর-৩৭০ ধারা বিলোপ সাধন, এই নিয়ে যখন দেশের রাজনৈতিক তথা সামগ্রিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত, তার মাঝেই মর্মান্তিক খবর৷ চলে গেলেন ভারতের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ হদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাত ১১ টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর৷

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন সুষমা স্বরাজ। দিল্লির এইমস হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়৷ রাখা হয় ইমারজেন্সিতে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি৷ কিছুক্ষণ পরেই লড়াইয়ে ইতি টানেন অন্যতম জনপ্রিয় নেত্রী সুষমা স্বরাজ৷

এই মর্মান্তিক খবর যে আসতে পারে তা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ৷ কারণ যে ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে কয়েক ঘন্টা আগেও ট্যুইট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন তিনি, বাড়ছিল লাইক, কমেন্টস, কথার পিঠে কথা৷ তার মাঝে হঠাৎ এই ছন্দপতন যেন মেনে নেওয়ার নয়৷ সোশ্যাল মিডিয়া উপচে পড়ছে শোকবার্তায়৷

ঘন্টা তিনেক আগেও (এই প্রতিবেদন লেখার সময় থেকে) তিনি ট্যুইট করে লিখেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীজি আপনাকে অভিনন্দন৷ আমি আমার জীবনে এই দিনটি দেখার জন্যই প্রতীক্ষা করছিলাম৷’

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই কাশ্মীর নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি৷ সেই পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায় তার জন্য কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় ভূ-স্বর্গকে৷ আটক হন কাশ্মীরের একাধিক নেতা-নেত্রী৷ ৩৭০ ধারার বিলোপ সাধন থেকে, কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল পাশ, একে একে এক একটা ধাপ এগোতে থাকে৷

রাজনৈতিক মহল থেকে বিরোধীপক্ষেরও অনেকে মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেন৷ ভারতের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও ট্যুইট করেছিলেন কয়েক ঘন্টা আগেও৷ আর তারপরেই মর্মান্তিক ঘটনা৷ মঙ্গলবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে গেলেন তিনি৷ তাঁর অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া৷