নিউইয়র্ক: দেখা হল কিন্তু কথা হল না৷ আমেরিকায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ তবে দুই শীর্ষ নেত্রী মধ্যে দেখা হলেও কথায় উঠে এলো না রোহিঙ্গা ইস্যু৷ বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, মূলত পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়েই কথা হয়েছে দুই নেত্রীর মধ্যে৷ জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রাভিশ কুমার৷

রাষ্ট্রসংঘের হিসাবানুযায়ী, মায়ানমার থেকে এখনও পর্যন্ত ৪ লক্ষ ১০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান৷ এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেশরিং তোবগের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷ তবে উঠে আসেনি ডোকলাম বিতর্ক৷ মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের কাছে কেন্দ্রীয় সরকার ১৬পাতার একটি হলফনামা দায়ের করেছে৷ এই হলফনামায় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থীর যোগাযোগের খবর পাওয়া গিয়েছে৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিষয়টি যে দেশের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে এমনটাই মনে করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের ভারতে প্রবেশও যে দেশের জন্য ঠিক হবে না এমনও মনে করা হচ্ছে৷

গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে আরাকান স্যালভেশন আর্মি নামে রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগ আছে৷ এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছে মায়ানমার সরকার৷ এতেই চিন্তিত ভারত৷ কারণ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা উত্তর পূর্ব ভারতেও প্রবেশ করছে৷ সেখানকার কিছু জঙ্গি সংগঠনও এদের মধ্যে প্রভাব ছড়াতে তৎপর৷ সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কিছু রোহিঙ্গা হাওয়ালার মাধ্যমে টাকার হেরফের করছে, পাশাপাশি দেশবিরোধী কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত বলে জানা গিয়েছে৷ জাল প্যানকার্ড থেকে জাল ভোটার আইডিও তারা তৈরি করছে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের জন্য৷

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট ভারতে অবৈধভাবে থাকা রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হওয়া পিটিশন নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়া হয়৷ উল্লেখ্য, দু’জন রোহিঙ্গা শরণার্থী মহম্মদ সলিমুল্লা এবং মহম্মদ শাকির পিটিশন করে জানান সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নিয়মকে উল্লঙ্ঘন করছে৷ তারা জানায়, রোহিঙ্গাদের ওপর মায়ানমারে হওয়া হিংসাত্মক ঘটনার জন্যই তাদের ভারতে আশ্রয় নিতে হচ্ছে৷ গত জুলাই মাসে রোহিঙ্গাদের ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশকে একটি ইস্যু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে৷ মায়ানমারে ফেরৎ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে, এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এই পিটিশন ফাইল করা হয়েছিল৷