আবুধাবি: একদিকে ভারত-পাক অশান্তির জেরে উত্তপ্ত সীমান্ত। অন্যদিকে, শুক্রবারেই দেশে ফিরছেন ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন। এর মধ্যেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল আবুধাবির অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনের বৈঠক। আর সেখানে গিয়েই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

এদিন তিনি পাকিস্তানের নাম না করেই বলেন, কোনও দেশেরই উচিৎ নয় সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া।

সুষমা স্বরাজের উপস্থিতির কারণেই এদিনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে রাজি হননি পাক বিদেশমন্ত্রী। বিশ্বের বাকি ইসলামি দেশগুলির প্রতিনিধিরা হাজির থাকলেও, পাকিস্তানের আসন খালি পড়ে ছিল। সেই ফাঁকা আসনের সামনেই এদিন ভাষণ দেন সুষমা স্বরাজ। তিনি বলেন, “মানবজীবনকে রক্ষা করতে হলে, যে সমস্ত দেশ সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে, তাদের সতর্ক করতে হবে। বলতে হবে, দেশের মাটিতে জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং দেশের মাটিতে যে জঙ্গি শিবিরগুলি রয়েছে, অবিলম্বে সেগুলি গুঁড়িয়ে দিতে হবে।”

সুষমা স্বরাজ আরও উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসবাদের গায়ে বিভিন্ন নামের তকমা লাগানো হলেও আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্মের নামে সন্ত্রাস চলে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আল্লার ৯৯টি নামের মধ্যে কোনোটারই অর্থ নৃশংসতা নয়। ইসলাম শান্তি কথা বলে।’ তাঁর মতে সামরিক বা কূটনীতিকভাবেই শুধু সন্ত্রাস দমন সম্ভব নয়, মানুষকে সঠিক পথ এগিয় নিয়ে যেতে হবে।’

অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের আমন্ত্রণ ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি। তাই শেষ মুহূর্তে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাই জানিয়ে দিয়েছেন পাক বিদেশমন্ত্রী। তবে পাকিস্তানের তরফ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন কয়েকজন অফিসার।

বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার জঙ্গি নিকেশ অভিযানের পর থেকেই পাকিস্তান ওই বৈঠকে ভারতের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তুলতে শুরু করেছিল। পাকিস্তানের চাপে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন ভারতের এয়ার স্ট্রাইকের নিন্দা জানায়। দুই দেশকে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলার বার্তাও দেয়।