মুম্বই: চলে গিয়েছেন অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার। বোনেরাও এখনো মেনে নিতে পারছেন না তাঁদের ভাই এই ইহলোক ছেড়ে বহুদূর চলে গিয়েছেন। প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু ভাবে স্মৃতিচারণ করছেন তাঁরা সুশান্তের। বোন শ্বেতা কীর্তিকে চিঠি লিখেছিলেন অভিনেতা। সেই চিঠি এই মুহূর্তে ভাইরাল সোশ্যাল দুনিয়ায়।

শ্বেতাকে লেখা এটি সুশান্তের শেষ চিঠি ছিল। সুশান্তের এই বোন আমেরিকা নিবাসী। তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই চিঠি শেয়ার করেন। স্বাভাবিক ভাবেই সে চিঠি ছড়িয়ে পড়ে সকলের মধ্যে। সুশান্তের নিজের হাতের লেখা সেই চিঠি দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তার অনুরাগীরা।

চিঠিতে দিদির উদ্দেশ্যে সুশান্ত লিখেছিলেন, “কেউ বলেন, তিনি সবটা করতে পারবেন। আবার কেউ বলেন তিনি করতে পারবেন না। এই দু’রকমের মানুষই সঠিক। কিন্তু তুমি প্রথম জনের মত। অনেক ভালোবাসা তোমাকে।”

এই চিঠিটি শেয়ার করে সুশান্তের দিদি তাঁর পোস্টে লেখেন, “আমার সোনা ভাই শারীরিকভাবে হয়তো আমাদের সঙ্গে আর নেই। কিন্তু ঠিক আছে। আমি বুঝতে পেরেছি তুমি অনেক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলে আর আমি জানতাম তুমি একজন যোদ্ধা ছিলে। তুমি লড়াই করছিলে। আমি সত্যিই দুঃখিত তোমায় এত যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। আমি যদি পারতাম তাহলে তোমার সমস্ত যন্ত্রণা নিয়ে নিতাম আর আমার সমস্ত সুখ দিয়ে দিতাম।”

শ্বেতা আরো লিখছেন, “তোমার উজ্জ্বল চোখ দুটো সারা পৃথিবীতে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল। তোমার সরল হাসি তোমার পবিত্র মনের প্রতিফলন ছিল। তোমাকে সব সময় ভালবাসব। তুমি যেখানেই থাকো সুখে থাকো, পরিপূর্ণ থেকো। আর মনে রেখো সবাই তোমাকে খুব ভালোবাসতো, ভালবাসে এবং ভালবাসবে। আমি সকলকে বলতে চাই এটা আমাদের পরীক্ষার সময়। কিন্তু যখনই আমাদের কাছে কোনো একটা কিছু বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে তখন সব সময় ঘৃণা বাদ দিয়ে ভালোবাসাকে বেছে নিন। রাগ, ক্ষোভ, স্বার্থপরত বাদ দিয়ে দয়াকে বেছে নিন। ক্ষমা করে দিন। নিজেকে ক্ষমা করুন এবং সকলকে ক্ষমা করুন। সবাই নিজের মতো করে লড়াই করছে। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন এবং অন্যদের প্রতিও তাই থাকুন। নিজের হৃদয়কে কখনো আটকে রাখবেন না।”

সুশান্তের দিদির এই পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। গত ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় সুশান্ত সিং রাজপুত এর ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানাচ্ছে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। বহুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। যদিও একের পর এক নানা রকমের তথ্য উঠে আসার ফলে সুশান্তের অনুরাগীরা মানতে নারাজ যে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। অনেকেই মনে করছেন আত্মহত্যা করলেও তার পিছনে রয়েছে বড় রহস্য। তাই ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করছে মুম্বই পুলিশ।

এখনো পর্যন্ত ২৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মুম্বাই পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছেন সুশান্তের পরিবার বন্ধু-বান্ধব ও কাজের সূত্রে যুক্ত কয়েকজন। বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী ও তার ভাই সৌভিক চক্রবর্তীর। সুশান্ত রিয়া ও সৌভিকের সঙ্গে একটি বিজনেস শুরু করেছিলেন। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ