মুম্বই: দিল বেচারা ছবির শ্যুটিং চলাকালীন সুশান্ত সিং রাজপুত এর বিরুদ্ধে মিটু অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সেই সময় খবর ছড়ায় যে ছবির অভিনেত্রী সঞ্জনা সংঘি নাকি সুশান্তের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন। যদিও পরে এই সমস্ত অভিযোগ যে মিথ্যে তা প্রকাশ্যে আসে। সঞ্জনা নিজেই জানান তিনি এমন কোনো অভিযোগ সুশান্তের বিরুদ্ধে কখনো করেননি।

সম্প্রতি সুশান্তের প্রাক্তন হাউজমেট ও বন্ধু কুশাল জাভেরি ২০১৮ সালে দিল বেচারা ছবির সময় সুশান্তের বিরুদ্ধে এই মিটু অভিযোগ নিয়ে মুখ খুলেছেন। একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে কুশাল লিখেছেন, তিনি সুশান্তের সঙ্গে ২০১৮-র জুলাই থেকে ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একসঙ্গেই থেকেছেন। ২০১৮-র অক্টোবরে সুশান্তের বিরুদ্ধে মিটু অভিযোগ ওঠার পরে তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন কুশাল। এর আগে নাকি কখনো সুশান্তকে এতটা দুর্বল হতে দেখা যায়নি।

কুশাল লিখছেন, “ইলেকট্রনিক মিডিয়া কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়াই ওকে নিশানা করছিল। আমরা সঞ্জনা সংঘিকে যোগাযোগ করার খুব চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেই সময় ও আমেরিকায় ছিল এবং কোনো মন্তব্য দিতে পারেনি।”

কুশাল দাবি করেছেন, সুশান্ত সেই সময় আসলে জানতেন কে তাঁর বিরুদ্ধে এই মিটু অভিযোগ এনেছে। কিন্তু প্রমাণের অভাবে সুশান্ত কিছু বলেনি। “আমার মনে আছে সুশান্ত টানা চার রাত ঘুমোতে পারেনি। অপেক্ষা করত সঞ্জনা কবে প্রকাশ্যে বলবে যে এই সব অভিযোগ মিথ্যে। অবশেষে পঞ্চম দিনে সঞ্জনা সমস্ত টা স্পষ্ট করে প্রকাশ্যে জানায়। ওর কাছে এটা বড় যুদ্ধ জয়ের মতো ছিল।” লিখেছেন কুশাল জাভেরি।

কিন্তু এই সবের পিছনে কে ছিল তা তা সুশান্ত জানতেন বলেই দাবি করেছেন তার বন্ধু কুশাল। সেই সময় নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য সঞ্জনার সঙ্গে তার কথাবার্তার চ্যাট এর স্ক্রিনশট পর্যন্ত প্রকাশ করেছিলেন সুশান্ত। অন্যদিকে আমেরিকা থেকে ফিরে এসে সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জনাও জানান তিনি এমন কোনো অভিযোগ করেননি এবং তার সঙ্গে এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সম্প্রতি পিংকভিলার কাছে এক সাক্ষাৎকারে সঞ্জনা বলেছেন, সবাই ভেবেছিল সে সময় সুশান্ত শুধু সমস্যার মধ্যে পড়েছিল। কিন্তু আমিও তখন সমস্যায় জর্জরিত ছিলাম। আমরা আমাদের সত্যিটা জানতাম। আমি জানতাম ও আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং সুশান্তও জানতো ও আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর চেয়ে বেশি বড় আর কী হতে পারে। আমরা সেটে রোজ শুটিং করতাম। একটা দুটো এরকম খবর বের হতো। কিন্তু সব গুজবে তো কান দেওয়া যায় না। তাই বিষয়গুলিকে এড়িয়ে চলতাম।”

সেই সময়ে সুশান্তের সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নানা রকমের খারাপ কথা লেখা হয়েছিল। এগুলোর প্রতি কোনো সম্মান নেই বলেও জানিয়েছেন সঞ্জনা। তিনি বলেছেন, “আমাদের মধ্যে কোনো কিছুর পরিবর্তন হয়নি। কারণ আমাদের মধ্যে আলাদা করে কিছু ছিল না। আমরা শুধু ভাবতাম সত্যিটা কিভাবে প্রমাণ করব। ভাবুন দুটো মানুষ যারা পরস্পরকে শ্রদ্ধা করে, তারা শুধু বসে ভাবছিল, ‘আমরা প্রমাণ করব কিভাবে?’ সুশান্ত বলেছিল আমাদের ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করবে। আমি সম্মতি জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করার পরেও মানুষ বিশ্বাস করেনি। তারপর আমি নিজে, যে নাকি ‘অভিযোগকারিণী’, সমস্তটা বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করি জনসমক্ষে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয়নি।”

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও