মুম্বই: ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ঝুলন্ত দেহ। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানিয়েছে আত্মঘাতী হয়েছেন অভিনেতা। বহুদিন ধরে তিনি অবসাদে ভোগেন। কিন্তু সুশান্তের অনুরাগীরা মেনে নিতে নারাজ। অনেকেই দাবি করছেন এই মৃত্যুর পিছনে রয়েছে আরও কোন রহস্য। কী কারনে সুশান্ত অবসাদে গিয়েছিলেন, তাকে কি কেউ ব্ল্যাকমেল করছিল, এ কি সত্যিই আত্মহত্যা? এরকমই বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা। আর তাই সকলেই ঘটনার জন্য সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে সুশান্তের ভক্তরা ঘটনার সিবিআই তদন্ত করানোর আবেদন রাখলেন।

সুশান্তের মৃত্যুর পরই বলিউডের নেপোটিজম বা স্বজনপোষণ ঘিরে বিতর্কের ঝড় চলছে। অনেকেই মনে করছেন এই স্বজনপোষণের শিকার হয়েছিলেন সুশান্ত। আর তার জন্যই এত প্রতিভাবান একজন অভিনেতাকে অবসাদে চলে যেতে হয়েছিল। আর তাই এবার প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ অনুরাগীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মর্মে শুরু হয়েছে #PMModiCBIForSSR ক্যাম্পেইন। সুশান্তের অনুরাগীরা এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীকে সিবিআই তদন্তের আবেদন করেছেন।

২০ দিনের বেশি হলেও সুশান্ত চলে গিয়েছেন। কিন্তু এখনও অভিনেতার মৃত্যু শোক থেকে বেরোতে পারেননি তাঁর অনুরাগীরা। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে তার স্মৃতিতে নানা রকম পোস্ট। এছাড়া অনেকেই মানতে নারাজ তাদের প্রিয় অভিনেতা আত্মঘাতী হয়েছেন। অনেকেই নিজেদের উদ্যোগে এই ঘটনার পিছনের রহস্য সমাধানে উঠে-পড়ে লেগেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে জাস্টিস ফর সুশান্ত সিং রাজপুত নামে নানা গ্রুপ। কেউ কেউ সুবিচারের জন্য রাস্তায় একজোট হয়ে নামছেন।

এদিকে ঘটনাটির তদন্ত করছে মুম্বই পুলিশ। এখনো পর্যন্ত ২৯ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সোমবার পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়াও সুশান্তের পরিবার বন্ধু-বান্ধব এবং কর্মসূত্রে যুক্ত কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।জেরার মুখে তিনি জানিয়েছেন, ঝগড়া হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। এরপরই সুশান্তের বাড়ি ছাড়েন তিনি।

ঘটনায় বান্দ্রা পুলিশ রিয়া চক্রবর্তীর ভাই সৌভিক চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। অভিনেত্রী রিয়ার ভাই নাকি সুশান্তের বিজনেস পার্টনার ছিলেন।

সুশান্তের কোম্পানি ভিভিড্রেজ রিয়ালিটিক্স চালু হয়েছিল ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে। এই কোম্পানি কাজ করে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি নিয়ে। আর এই কোম্পানির সূত্রেই রিয়ার ভাই সৌভিকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কোম্পানিটির পার্টনার ছিলেন সুশান্ত নিজে, রিয়া এবং রিয়ার ভাই সৌভিক চক্রবর্তী। তবে কোম্পানি খোলার সময় যে বিনিয়োগ করতে হয় তার পুরোটাই করেছিলেন সুশান্ত নিজে।

সুশান্ত নিজে থেকে রিয়ার ভাইকে কিন্তু পার্টনার হিসেবে বেছে নেননি। জানা যাচ্ছে এই কোম্পানিতে পার্টনার হিসেবে সৌভিককে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন রিয়া চক্রবর্তীই। রাজি হয়েছিলেন সুশান্ত। ‌ তবে এই বিষয়টি নিয়ে খুব একটা খুশি ছিল না সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবার। কোম্পানির ওয়েবসাইট রেজিস্ট্রেশন হওয়ার সময় সেখানে ছিল সৌভিক এর নাম।

সূত্রের খবর, রিয়া জানিয়েছেন যে লকডাউনে সুশান্তের বাড়িতেই একসঙ্গে থাকছিলেন তিনি। কিন্তু দিন কয়েক আগে ঝগড়া হওয়ায় সুশান্তের বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপরও তঁদারে মধ্যে ফোনে ও মেসেজে কথাবার্তা চলছিল বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ