কলকাতা ২৪x৭: বাম জমানার ৩৪ বছরের মধ্যে টানা তিন দশকের বিধায়ক ছিলেন। ২০১১ তে বহু রথী মহারথীর পরাজয়ের মাঝেও জয়ী হন। মাঝে দীর্ঘ দশ বছরের টানা নীরব বিরতি সুশান্ত ঘোষের। তাঁর কথায় ‘মাটির রাজনীতি’তে ফিরে নিজ মহিমায় প্রচারে নেমেছেন।

বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএম তথা সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী সুশান্ত ঘোষ জঙ্গল মহলের দুই জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকায় নতুন করে ভোটের জমি তৈরি করছেন তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির। অবশ্য তাদের দাবি, সুশান্ত ঘোষ পুরনো ফর্মে সন্ত্রাসের হাওয়া বইয়ে দিতে চান।

আর বাম জমানার মন্ত্রী সুশান্তবাবু প্রচারে বেরিয়ে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, কার কতো হিম্মত দেখি। তাঁর বার্তা ছড়িয়েছে জঙ্গলমহল সংলগ্ন আরও দুই জেলা পুরুলিয়া ও বাঁকুড়াতেও।

তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির অভিযোগ, সুশান্ত ঘোষের হুমকিতে বিভিন্ন গ্রামে ঢুকতে পারা কঠিন হচ্ছে। সিপিআইএম কর্মীরা একের পর এক পার্টি অফিসের দখল নিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে এমনও ছবি, সুশান্ত ঘোষ গ্রামে ঢুককেই শুরু হয়েছে প্রণামের পালা। আর তিনি বলছেন, আমি থাকতে কারোর হিম্নত নেই গায়ে হাত দেওয়ার।

২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের পর সুশান্ত ঘোষের এলাকা গড়বেতার বেনাচাপড়া গ্রামের কংকাল কাণ্ড ঘিরে পরিস্থিতি ছিল সরগরম। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। উঠে যায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা। বিরাট মিছিল নিয়ে সুশান্তবাবু জেলার চন্দ্রকোনা টাউনে ঢুকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দেন।

এর পর নির্বাচনের প্রক্রিয়া যত এগিয়েছে, ততই সুশান্তবাবুর প্রচার রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলেছে। গড়বেতা, শালবনী, ছাড়িয়ে রাজ্য জুড়েই আলোচিত তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, সুশান্ত ঘোষের জনসভা হোক বা গ্রামে ঢুকে প্রচার, সর্বত্র জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। যে বেনাচাপড়া গ্রামের কংকাল কাণ্ডে তিনি জড়িয়েছিলেন সেখানেও পুষ্পবৃষ্টির মধ্যে তাঁকে বরণ করা হয়। এলাকাগুলিতে গত দশ বছরে সিপিআইএম ছিল নিশ্চিহ্ন।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, যে এলাকায় বামেরা উড়ে গিয়েছিল, সেখানে এখন পার্টি অফিস পুনর্দখল করছেন সুশান্ত ঘোষ। খোদ প্রাক্তন মন্ত্রী যে শক্ত প্রতিপক্ষ তা ঠারে ঠোরে স্বীকার করছেন তৃণমূল নেতারা। সুশান্ত ঘোষের স্পষ্ট দাবি, ভোটের লড়াই করো, মারধর করতে এলে’ ঠ্যাং ভেঙে দেওয়া হবে’। এই ধরণের গরম গরম দাবিতে বাম শিবির চাঙ্গা। সংযুক্ত মোর্চার গঠন জমাট বেধেছে, সেই সমীকরণ তুল্যমূল্য আলোচনায়। বাম ও তাদের বিরোধী দুই শিবিরেই ‘সুশান্ত এফেক্ট’ এখন জঙ্গলমহলের চালু কথা।

বাম জমানার ৩৪ বছরের মধ্যে ৩২ বছরের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ। তিনি গড়বেতা থেকে শেষবার ২০১১ সালে জয়ী হন। এর পরে তাঁর বিরুদ্ধে বেনাচাপড়া কঙ্কাল কান্ডের মামলায় সরগরম ছিল রাজনৈতিক মহল। জেলে যান সুশান্তবাবু। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। তিনি আইনি জটিলতা কাটিয়ে ১০ বছর পর ফিরে জমি তৈরির কাজ নতুন করে শুরু করেছেন।

গড়বেতার বিধায়ক হয়েই বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। বাম জমানার শেষ দশ বছরে বারবার আলোচিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত কিছু কথা আত্মজীবনীমূলক বইতে লিখেছেন, এতে তাঁর কারাবাসের মুহূর্ত, জেরা প্রক্রিয়া পড়ে পাঠক মহল আলোচিত। বাম জমানার দাপুটে মন্ত্রী ছিলেন সুশান্ত ঘোষ। ‘মাটির রাজনীতি’তে ফিরে ফের হুঁশিয়ারি দেওয়ার কারণে ফের নিজ দলের বসে যাওয়া নেতা কর্মীদের আস্থাভাজন তিনি।

‘সুশান্ত এফেক্ট’ নিয়ে হিসেবের কড়ি গুনছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.