মুম্বই: শুধুমাত্র একজন অভিনেতাই ছিলেন না সুশান্ত সিং রাজপুত। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান তাঁর পারিপার্শিক মানুষদের আলোকিত করত। সোশ্যাল মিডিয়ায় মহাকাশ, জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে তাঁর পোস্টগুলিতে মুগ্ধ হতেন তাঁর ভক্তরা। তবে নিজের সিংহ ভাগকে প্রচারের আলো থেকে দূরেই রাখতেন তিনি। যেমন অনেকেই জানেন না, সুশান্ত টুইটারে নিজের পছন্দের বই নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন।

বুক ক্লাব নামে এই অ্যাকাউন্টে নিজের পছন্দের বই নিয়ে কথা বলতেন এবং ফলোয়ারদের অনুপ্রাণিত করতেন। ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১২ হাজারের কিছু বেশি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবির প্রোমোশনের ভিডিও বা ছবি সফল হওয়ার পরে তা ভক্তদের জানানো এসব কিছুই করতেন না তিনি। বলিউডের অ্যাওয়ার্ড শো বা গ্ল্যামার দুনিয়া তেমন কোনও পোস্টই ছিল না সুশান্তের অ্যাকাউন্টে। বরং তিনি কথা বলতেন মহাকাশ, কোডিং, বই ও বিজ্ঞান সম্পর্কিত নানা বিষয় নিয়ে। তথাকথিত রুপোলি দুনিয়ার তারকাসুলভ ভাবমূর্তি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বহন করতেন না।

বুক ক্লাব নামক এই টুইটার হ্যান্ডলে নিজের পছন্দের বেশ কিছু বই পড়তে তিনি উদ্বুদ্ধ করতেন ভক্তদের। ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি এই টুইটার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিজের অ্যাকাউন্টের ফলোয়ারদের পরিচয় করিয়েছিলেন সুশান্ত। তিনি লিখেছিলেন, ২০১৮-য় আমি প্রথম যে কাজটি করতে চাই সেটি হল একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে চাই যেখানে আমরা বই নিয়ে আলোচনা করতে পারি। কোনও নির্দিষ্ট বই পড়ার পরামর্শ দিতে পারি।

বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে বইয়ের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন। এই অ্যাকাউন্টে তিনি যে বইগুলি পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন সেগুলির মধ্যে রয়েছে, Chaos and Fractals: New Frontiers of Science, The Beginning of Infinity: Explanations That Transform the World by David Deutsch and The Ancient Secret of the Flower of Life Volume One by Drunvalo Melchizedek

সুশান্ত বই পড়া সম্পর্কে বলেছিলেন, বাস্তব জীবনের কাঠানো সম্পর্কে পড়ার আগ্রহ থাকলে এই বইগুলি পড়ুন। এই বইগুলির খোঁজ সুশান্তের থেকে পেয়ে বহু বইপ্রেমীই উপকৃত হয়েছিলেন। এই বইয়ের অ্যাকাউন্টের খোঁজ সম্প্রতি পেয়ে একজন ভক্ত টুইট করেছেন, আমি কেন ওঁর বুক ক্লাব অ্যকাউন্ট ফলো করিনি। কী দারুণ মানুষ ছিলেন!

আর একজন লিখেছেন, এই বইগুলি পড়ার পরামর্শ দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ সুশান্ত। আমি সারাজীবন এইগুলি উপভোগ করব। তোমার আত্মার শান্তি কামনা করি।

এর থেকেই বোঝা যায় নিজের অপরিসীম জ্ঞানের পরিসরে এনে তিনি মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা রাখতেন। কিন্তু বলিউডের চাকচিক্যে কোথাও যেন ঢাকা পড়ে গিয়েছিল তাঁর জ্ঞানের দীপ্তি। অথবা নিজেকেই হয়তো প্রচারের আলো থেকে সরিয়ে রাখতে ভালোবাসতেন তিনি। আর তাই সুশান্তের মতো মানুষকে তাঁর মৃত্যুর পরে নতুন ভাবে রোজ খুঁজে পাচ্ছেন তাঁর ভক্তরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ