মুম্বই: সুশান্তের জীবনে বিপদ আসতে পারে, একথা আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন তাঁর বাবা কেকে সিং। এবার ফের মুখ খুললেন অভিনেতার বাবা। জানালেন ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি মুম্বই পুলিশ।

সোমবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন সুশান্তের বাবা কেকে সিং। তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতেই পুলিশকে জানিয়েছিলাম। মুম্বই পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’

এদিকে সোমবারই মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডারের জন্য ওষুধ খাচ্ছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। মৃত্যুর আগে সুশান্তে গুগলে কী কী সার্চ করেছিলেন, সেকথাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে এদিন জানিয়েছে মুম্বই পুলিশ।

পুলিশের দাবি, ‘পেনলেস ডেথ’ বা যন্ত্রণাহীন মৃত্যু কীভাবে হয় তা গুগলে খুঁজেছিলেন সুশান্ত। এছাড়া তাঁর প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের নামও সার্চ করেছিলেন সুশান্ত, যাঁর মৃত্যু হয় সুশান্তের মৃত্যু সপ্তাহ খানেক আগে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে গুগুলে নিজের নামও সার্চ করেছিলেন সুশান্ত।

১৪ জুন উদ্ধার হয় সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ। আর তার ঠিক ৪ মাস আগে সুশান্তের বাবা বান্দ্রা পুলিশের কাছে জানিয়েছিলেন, সুশান্তের জীবনে কোনও বিপদ আসতে পারে।

সুশান্তের বাবা বান্দ্রা পুলিশের কাছে এ বিষয়ে সাহায্য চাইলেও তারা কোনরকম গুরুত্ব দেয়নি। এই তথ্য আগেই প্রকাশে এনেছিলেন সুশান্তের পরিবারের আইনজীবী বিকাশ সিং। তিনি বলেছেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বই পুলিশের কাছে তাঁর মাধ্যমে সাহায্য চেয়েছিলেন সুশান্তের বাবা। জানিয়েছিলেন তার ছেলের জীবনে বিপদ ঘটতে পারে।

বিকাশ সিং আরও বলেছিলেন, “আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে মুম্বাই পুলিশকে জানিয়েছিলাম সুশান্ত খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। যাদের সঙ্গে রয়েছে তারা খুব একটা ভালো নয়। যাতে কোনো বিপদ না ঘটে সেজন্য বান্দ্রা পুলিশকে বিষয়টি নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই সময় পুরোপুরি রিয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সুশান্ত।“

কিন্তু এরপরেও মুম্বই পুলিশ কোনও গুরুত্ব দেয়নি। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মুম্বই পুলিশ। এমনকি জানা যাচ্ছে প্রথমে বিহার পুলিশও ঘটনার এফআইআর নিতে চায়নি। এই মামলায় হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিরা জড়িয়ে আছেন বলে তারা এফআইআর নিতে চাইছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের মধ্যস্থতায় তারা এফআইআর নিয়েছে। এমনই জানিয়েছেন বিকাশ সিং।

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুম্বই পুলিশ কমিশনার পরমবীর সিং। এবং এই তদন্ত নিয়ে মুম্বই পুলিশের তদন্তে উঠে আসা বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের পরিষ্কারভাবে জানান, মুম্বই পুলিশ ১৪ তারিখ সুশান্তের অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল। অন্যদিকে সুশান্তের পরিবারের তরফে বিহার পুলিশে সুশান্তের মৃত্যু সংক্রান্ত এফআইআর দায়ের করে পরিবার।
সাংবাদিক বৈঠকে পরমবীর সিং স্পষ্টতই জানান, সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দলের নেতার নাম সামনে উঠে আসেনি। কারুর বিরুদ্ধে কোনওরকম তথ্য-প্রমাণ মেলেনি। তিনি আরও যোগ করেন, প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর সঙ্গে বেশকিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাঁর নাম জড়ানোয় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন সুশান্ত। সুশান্তের মৃত্যুর ঠিক ৬ দিন আগে ৮ই জুন রাতে দিশা সালিয়ানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সেখানে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত করছে পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে,ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন দিশা সালিয়ান। মৃত্যুর আগের দিন রাতে সুশান্তের বাড়িতে কোনওরকম পার্টি হয়নি। সুশান্ত ও তাঁর বাড়িতে যাঁরা থাকতেন তাঁরাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন,বললেন মুম্বই পুলিশ কমিশনার। তিনি আরও বলেন, সুশান্ত নাকি তাঁর আইনজীবীকে একটি মেসেজও পাঠান যে কেন দিশার মৃত্যুতে তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না! এই থেকেই স্পষ্ট দিশার মৃত্যুতে বিপর্যস্ত ছিলেন সুশান্ত।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা