মুম্বই: সুশান্তের মৃত্যুর পর অবাক হয়েছেন অনেকেই। সুদর্শন, সফল তরুণের এমন আত্মহণন অবাক করেছে প্রত্যেককে। তবে ক্রমশ সামনে আসছে তাঁর ডিপ্রেশনের বিষয়টি। অনেকেই বলছেন, সুশান্তের মানসিক অস্থিরতার কথা তাঁরা জানতেন।

এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই কথা বলেছেন শেখর কাপুর, মহেশ ভাট। প্রযোজক মহেশ ভাট জানিয়েছেন, ‘সড়ক ২’ ছবির জন্য সুশান্তকে ডেকেছিলেন তিনি। তখনই সুশান্তের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছিলেন যে, সব কিছু ঠিক নেই। কিছু কিছু অস্বাভাবিক বিষয় লক্ষ্য করেন তিনি।

তিনি সেইসময় পরিচিতদের বলেছিলেন যে, বহু বছর আগে পরভিন ববির যে মানসিক সমস্যা তিনি দেখেছিলেন, সুশান্তের মধ্যেও তিনি তেমনটা লক্ষ্য করেছেন। উল্লেখ্য, অবসাদে এভাবেই আত্মহত্যা করেছিলেন অভিনেত্রী পরভিন ববি। মহেশ ভাট বুঝেছিলেন ওষুধ ও চিকিৎসা ছাড়া সুশান্তকে বাঁচানোর উপায় নেই। সেটাও বছর খানেক আগের কথা।

তবে শেষের দিকে সুশান্তের মানসিক অবস্থা কতটা খারাপের দিকে গিয়েছিল সেকথা জানিয়েছেন মহেশ ভাটের সঙ্গে কাজ করা লেখিকা সুহৃতা সেনগুপ্ত। মহেশ ভাটের সূত্রেই তাঁর সঙ্গে সুশান্তের দেখা হয়েছিল।

তিন জানিয়েছেন, ‘সড়ক ২’ ছবির জন্যই মহেশ ভাটের সঙ্গে দেখা হয়েছিল সুশান্তের। আর সুশান্ত ফিজিক্স থেকে শুরু করে সিনেমা, সব বিষয়েই অনায়াসে কথা বলতে পারতেন। আর কথাবার্তার মধ্যেই মহেশ ভাট ধরে ফেলেছিলেন যে সুশান্ত মানসিকভাবে ঠিক নেই।

কিন্তু ওষুধ খেতেন না সুশান্ত। সুহৃতার দাবি, বারবার চিকিৎসারব জন্য চাপ দিয়েছিলেন প্রেমিকা রিয়া। কিন্তু কথা শুনতেন না অভিনেতা।

সুহৃতার দাবি, শেষ এক বছর নিজেকে সবার থেকে দূরে সরিয়ে ফেলেছিলেন সুশান্ত। রিয়া তাঁর সঙ্গে ছিলেন কিন্তু তাঁরও একটা সময়ের পর সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায়। লেখিকা জানিয়েছেন, শেষের দিকে বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ শুনতে পেতেন সুশান্ত। বলতেন, কেউ তাঁকে মারতে আসছে। পরভিন ববিও একসময় এই ধরনের আওয়াজ শুনতেন বলে জানা যায়। এমনকি একদিন সুশান্ত বাড়িতে বসে অনুরাগ কাশ্যপের সিনেমা দেখছিলেন, সেইসময় রিয়াকে বলেন, ‘আমি অনুরাগের একটা অফার ছেড়ে দিয়েছি। এখন সে আমাকে মারতে আসছে।’

রিয়াও তখন ভয় পেয়ে সুশান্তের বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। রিয়া সুশান্তের দিদিদেরও সাহায্যের জন্য বলেছিলেন। অভিনেতার দিদি’রাও যতটা সম্ভব সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সুশান্ত কারও কথা শুনতেন না। কোনও ওষুধ খেতেন না।

শেষ তিন মাস নিজেকে একটা মানসিক কারাগারে বন্দি করে ফেলেছিলেন অভিনেতা। দিনের পর দিন একটু একটু করে অবসাদের অন্ধকারে ডুবে যাচ্চিলেন তিনি। কেউ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ