পর্ণা সেনগুপ্ত : এতটা একা ছিলেন সুশান্ত? অথচ বুঝতে দেননি কখনও? পর্দায় জেতার কথা বলে, বাস্তবে এভাবে হেরে যাওয়া যায়? যায়…মানসিক অবসাদে কুরে কুরে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার আগে তখন মনে পড়ে না প্রিয় মুহুর্তগুলোর কথা। যে কথা বাঁচার কথা বলে, যে কথা জীবনের কথা বলে, যে কথায় অক্সিজেন মেলে মুঠো ভর্তি করে। সে কথা এত তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে গেল সুশান্ত?

জানেন আপনার ফেসবুক বলছে দুলক্ষেরও বেশি ফলোয়ার ছিল আপনার। ট্যুইটার বলছে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ আপনাকে পছন্দ করত, ফলোয়ার ছিল আপনার। ইন্সটাগ্রাম বলছে আপনার ফলোয়ার ছিল এক কোটিরও বেশি। তাহলে? বলিউড ভালবেসেছিল আপনাকে। আমরা ভালবেসেছিলাম। তবু শনিবারের সেই রাতটায় একদম একা ছিলেন নিজের বান্দ্রার ফ্ল্যাটে। একদম একা।

কতটা একা হলে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার ভাবনা আসে সুশান্ত? নিজেকে শেষই করে ফেলা যায়? সে খোঁজ রাখিনি আমরা। বারবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নিজের একাকীত্বের। বলেছিলেন কোনও পুরুষ কেন কাঁদতে পারবে না ? অনুভূতিই তো কোনও ব্যক্তিকে মানুষ বানায়। তাহলে কি হল সুশান্ত? মাকে দেওয়া কথা না রেখে চলে গেলেন এত তাড়াতাড়ি? বলেছিলেন না সারা জীবন হাসবেন?

সোশ্যাল মিডিয়ায় এত ফলোয়ার থাকা সত্ত্বেও তীব্র মানসিক অবসাদে নিজেকে শেষ করে দিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত। এরপরেও কি কারোর ভাঙাচোরা মানসিক স্বাস্থ্যের ছবি সামনে রাখার সাহস দেখাবো না আমরা? অবশ্য সবাই দীপিকা পাডুকোন হতে পারেন না। জোর গলায় বলতে পারেন না হ্যাঁ, তিনি ডিপ্রেশনের শিকার। কেউ এগিয়ে আসুন, সাহায্যের হাত বাড়ান। যেমন পারেননি সুশান্ত। বলতে পারেননি নিজের তলিয়ে যাওয়ার কথা।

সাফল্যের চূড়ায় বসেও, অন্ধকারময় সময় কাটাচ্ছেন-জানাতে পারেননি কাউকে। চারপাশের বন্ধুরা, কোথায় ছিলেন তাঁরা ? সোশ্যাল মিডিয়ার ভক্তরা, কোথায় ছিলেন? না, সেই সময়গুলো কেউ থাকে না, যখন চারপাশে শুধু অন্ধকার থাকে। একটা হাত বাড়িয়ে এটুকু সামান্য কেউ বলতে পারে না,এগিয়ে চল, পাশে আছি। তাহলে কেন এত বন্ধু ? কি দরকার এত ফলোয়ারের, এত ভক্তের ? জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে যদি কেউ সেই বিষাদ সময়ে পাশে না থাকে, তবে কিসের সোশ্যাল মিডিয়া ? সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে হইচই।

লাইক, শেয়ার, কমেন্টের বন্যা। কখনও আবার সমালোচনার তুফান। তবে সবই ভার্চুয়ালি। এ এক আশ্চর্য গোলকধাঁধাঁ। আলো থাকুক, সব পরিষ্কার। যেই ফোনের স্ক্রিন লক করলেন, ফের এক অদ্ভুত আঁধার। চারপাশে একা। কেউ নেই, কোথাও নেই। ফেসবুকে হাজারের ওপর বন্ধু। কিন্তু বাস্তবে ? কে কোথায়, কেউ জানে না। সেই গোলকধাঁধাঁয় পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। বন্ধু নেই, কথা বলার লোক নেই, হাত ধরার মানুষ নেই।

তাহলে কে আছে? শুধু সোশ্যাল মিডিয়া। পোস্ট করুন, লাইক পান, শেয়ার হোক লেখা, ছবি। কমেন্টের আবেগে ভাসুন। তবে সেখানেই শেষ হোক সব ভাবনা। ফিরুন বাস্তবের মাটিতে। কথা বলুন। ফোন করুন। আড্ডা মারুন। ঝগড়া করুন। চেঁচিয়ে কাঁদুন। হেসে গড়িয়ে পড়ুন।

কিন্তু সময় বের করুন নিজের জন্য। আরও সেই চারটে মানুষের জন্য যারা চেনে আপনাকে, জানে আপনাকে, বোঝে আপনাকে। তারাই হারাতে দেবে না আপনাকে। হাত বাড়িয়ে ধরবে, আলো দেখাবে। বলবে ভয় কী, আছি তো। সুশান্ত….শুনতে পাচ্ছেন?

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ