বিশেষ প্রতিবেদন: মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দ্বিতীয় শীর্ষ ডাকাবুকো নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মঞ্চ সরগরম। সূত্রের খবর, ‘ছাত্র জীবনে আরএসএস করা’ শুভেন্দুবাবু যে দলত্যাগ করছেনই সেই কড়া বাস্তব মেনে নিয়েছেন খোদ দলের সুপ্রিমো। গুঞ্জন এভাবেই দুটি রাজনৈতিক হাত হারাতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী। আগেই তাঁকে ছেড়ে গিয়েছেন মুকুল রায়। শুভেন্দু বাবুর হাতেই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দুটি জেলা ছেড়ে নিশ্চিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে বাম জমানার প্রাক্তন মন্ত্রী তথা অন্যতম আলোচিত আরেক ডাকাবুকো নেতা সুশান্ত ঘোষ। কমিউনিস্ট নেতা সুশান্তবাবু দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১১ সালের পর ফের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ঢুকতে চলেছেন। সিপিআইএম সূত্রে খবর, আগামী ৬ ডিসেম্বর তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে জনসভা করেই নতুন করে দলীয় কর্মসূচি শুরু করবেন। তাঁকে দুই মেদিনীপুর সহ জঙ্গলমহলের অন্তর্ভুক্ত ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার একাধিক বিধানসভার দায়িত্ব দিয়েছে সিপিআইএম।

টানা তিন দশকের শাসনের পর ২০১১ সালে রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। বাম সরকারের শেষ কয়েক বছর অর্থাৎ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়ে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে নেতাই গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কংকাল কাণ্ডে নাম জড়ায়। গ্রেফতার হলেও সুশান্তবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। জামিন পেলেও নিজ জেলা সহ জঙ্গল মহলের কোথাও সুশান্ত ঘোষের প্রবেশাধিকার ছিল না। আইনি লড়াইয়ে তিনি সেই ছাড়পত্র আদায় করেছেন।

২৬ তারিখ বামপন্থী দল ও ট্রেডইউনিয়নগুলির ডাকা ভারত জোড়া ধর্মঘটে পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলে বিশেষ প্রভাব দেখা গিয়েছে। ‘সুশান্ত এফেক্ট’ হিসেবেই পুরো বিষয়টি দেখছেন জেলার বাম নেতৃত্ব। কারণ, ধর্মঘটের আগেই প্রচার হয়েছিল জেলায় ফিরছেন সুশান্তবাবু।

পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে বড়সড় ফাটল গত কয়েকদিন ধরেই চওড়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী বারবার সরকারের ও দলের কটাক্ষ করেছেন। তবে কোনওক্ষেত্রেই সরাসরি আঘাত করেননি। যদিও দলীয় কর্মী ও অনুগতদের প্রচার ছিল ‘দাদা’ (শুভেন্দু অধিকারী) দল ছাড়তে চলেছেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ঠিক উল্টো ছবি। সেখানে সিপিআইএম মহলে প্রচার ‘দাদা'(সুশান্ত ঘোষ) ফিরতে চলেছেন। এতেই কর্মী সমর্থকদের উদ্দীপনা বেড়েছে। বাম সরকার পতনের পর জেলায় সুশান্ত বিহীন সিপিআইএম ছিল কোণঠাসা।

শুভেন্দু অধিকারী ও সুশান্ত ঘোষ দুই রাজনৈতিক মেরুর নেতা। দুই নেতা নিজ ইমেজে বলীয়ান। বাম সরকার পতনের পর প্রায় আড়ালে থাকা সুশান্ত ঘোষ বারবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বি়ভিন্ন রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এই কারণে তাঁকে দল থেকে সতর্ক ও পরে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে অচিরেই তিনি তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে বোমা ফাটাবেন। তবে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে নীরব তিনি।

গত লোকসভা ভোটের নিরিখে বিজেপি ও তৃণমুলের ঝুলিতে সবকটি আসন। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল এলাকার পাঁচটি জেলা জুড়ে ‘সংঘ ছাত্র’ শুভেন্দু ও ‘কমিউনিস্ট’ সুশান্তের লড়াই হবে, তা স্পষ্ট।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।