ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচন থেকে বড়সড় শিক্ষা নিয়েই ফের কাছাকাছি বাম-কংগ্রেস৷ পুরসভা ও বিধানসভা ভোটের আগে ভাটপাড়ার মতো গরমাগরম ইস্যুকে সামনে রেখেই নিজেদের ‘বন্ধুত্ব’টা ফের ঝালিয়ে নিচ্ছে তারা৷

পুলিশ-জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষে প্রায় একসপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগণার ভাটাপাড়া অঞ্চল৷ আপাতত সংঘর্ষ বন্ধ হলেও এলাকায় আবহাওয়া থমথমে৷ এলাকায় শান্তি ফেরাতে ২৫ জুন কংগ্রেস-সিপিএম একসঙ্গে কাঁকিনাড়া স্টেশনে জমায়েত হয়ে জগদ্দল ও ভাটপাড়ায় ডেপুটেশন দেবে৷কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকবেন জেলা সভাপতি তাপস মজুমদার৷প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্ররও থাকার কথা রয়েছে৷এদিকে সিপিএমের নেতৃত্বে থাকবেন দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, মহম্মদ সেলিম ও জেলা নেতৃত্ব৷

শুধু তাই নয়, রাজ্যে ধর্মীয় বিভাজন ও মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রদেশ কংগ্রেসের গণ অবস্থানেও সিপিএম নেতৃত্বকে দেখা যেতে পারে৷ বিধানভবন জানিয়েছেন, ২৭ জুন বারাকপুর স্টেশনে সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত গণ অবস্থানের কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে৷ সেখানে প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব থাকবে৷ ওই কর্মসূচীতে বামেদেরও আহ্বান জানানো হয়েছে৷ প্রদেশ নেতৃত্বের দাবি, বামেরাও সেই অবস্থানে যোগ দিতে রাজি হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই বিধানসভার অলিন্দে তাই প্রায়ই একজোটে লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে সুজন চক্রবর্তী-আব্দুল মান্নানকে।

লোকসভা ভোটে রাজ্যে বাম-কংগ্রেসকে ব্যাকফুটে ঠেলে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। দুই শিবিরই মনে করছে, সমঝোতা ভেস্তে না গেলে তাদের সম্মান রক্ষা হত। গেরুয়া আগ্রাসন রুখতে তাই এখন দুপক্ষই একে ওপরের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছে৷

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর কথায়, লোকসভা ভোটে আমরা একসঙ্গেই লড়তে চেয়েছিলাম৷কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি৷ কিন্তু এখন এসব নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার সময় নয়৷ যা পরিস্থিতি তাতে আমাদের সবাই একসঙ্গে মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়তে হবে৷ না হলে বাংলায় আগুন জ্বলবে৷

সিপিএমের জেলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে গার্গী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২৭ জুন কংগ্রেসের গণ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা দলে আলোচনা চালাচ্ছে৷ রাজ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার জন্যই তারা বাম- কংগ্রেস কাছাকাছি এসেছে বলে মনে করেন তিনি৷

তবে বছর ঘুরলেই পুরসভার ভোট। তারপর পঞ্চায়েত ও বিধানসভা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আর কোনওমতেই দ্বিতীয়বার ভুল করতে চাইছে না আলিমুদ্দিন ও বিধানভবন৷তাই ভাটপাড়া আন্দোলন দিয়েই দুপক্ষ এখন নিজেদের বিজেপির বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া৷