কলকাতা: বাম-কংগ্রেস জোট রাজনীতিতে চিড়? তেমনই ইঙ্গিত সূর্য-সুজন ও অধীরের পরষ্পরবিরোধী মন্তব্য়ে। সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে রওনা দেওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় জানান, আগামী কয়েরদিনের মধ্য়ে রাজ্য বিধানসভায় নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিল পাশ করানো হবে। মুখ্য়মন্ত্রীর বক্তব্য়ে বিশেষ আমল দিতে নারাজ সিপিএম রাজ্য় সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তাঁর কথায়, ‘না আঁচালে মমতাকে বিশ্বাস নেই৷’ সূর্যকান্ত মিশ্রের এই মন্তব্যের পরই উলটো সওয়াল কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর। মুখ্যমন্ত্রীর সিএএ নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী।

সিএএ বিরোধিতায় বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করানো হবে বলে সোমবার জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এমনকী রাজ্যের বিরোধী দলগুলি রাজি থাকলে এব্যাপারে বৈঠকেও আগ্রহী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার বিধানসভাতেও নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হবে বলে জানানোর পাশাপাশি দেশের অন্য রাজ্যগুলিকেও এব্যাপারেও একই পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আগামী ২৭ জানুয়ারি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে রাজ্য় বিধানসভায় প্রস্তাব আনা হবে বলে জানিয়েছেন পরিষদীয় দলনেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তবে সিএএ ইস্যুতে বিধানসভায় বিল পাশ করানোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলনেত্রীর কথায় ভরসা রাখছে না রাজ্য সিপিএম নেতৃত্ব। সোমবারই সেকথা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র ও বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘ওনাকে না আঁচালে বিশ্বাস নেই। বিল পাশ করানোর হলে উনি আগেই তা করতেন৷ মানুষকে ভুল বোঝানোর কথায় মেতেছেন উনি। ওনার উপরে বিশ্বাস নেই। বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও সূর্যকান্ত মিশ্রের কথাতেই সায় দিয়েছেন৷ মমতার উদ্যোগকে কটাক্ষ করে সুজন বলেন, ‘সকালে এক ও বিকেল অন্য কথা বলেন তৃণমূলনেত্রী৷’

উলটো দিকে, রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চে মত-পার্থক্য যতই থাক সিএএ ইস্যুতে বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করানোর প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্য়োগের প্রশংসা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী। মমতার ঘোষণায় রীতিমতো সন্তুষ্ট প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। অধীর বলেন, ‘ভালো প্রস্তাব দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী৷ । অনেক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। প্রস্তাব আনলে খুশি হয়েই ওঁকে সমর্থন জানাব৷ দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷’

নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আগেই কেরল বিধানসভায় বিল পাশ হয়েছে৷ একই পথে হেঁটেছে পাঞ্জাব সরকারও৷ এবার কেরল, পঞ্জাবের সঙ্গেই সিএএ ইস্যুতে একই পদক্ষেপ নিতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷