নয়াদিল্লি: হিন্দুত্বের প্রচারের আলোয় আলোকিত বিজেপি। মানুষের এই বিশ্বাসের উপর ভর করেই সাফল্যের সঙ্গে প্রথম দফা পেরিয়ে দ্বিতীয় দফা শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। তবে ভারতবর্ষে ফুটপাথের ধারে যে বড় অংশ বসবাস করে তার অধিকাংশই নাকি হিন্দু। কিছুটা অবাক করা তথ্য তুলে ধরে সেরকমটাই বলছে সমীক্ষা।

দিল্লির ইন্দো গ্লোবাল সোশ্যাল সার্ভিস সোসাইটি নামে সংস্থার অপ্রকাশিত একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে, মোট মুসলিম ৭.‌৮ শতাংশ, খ্রিস্টানরা রয়েছেন পাঁচ শতাংশ এবং বাকি ৮৬ শতাংশই নাকি হিন্দু। তবে এরা গৃহহীন হলেও বেকার নন। যুক্ত বিভিন্নরকমের পেশায়। তবে পেশার অনিশ্চয়তা তাঁদের আবারও ফিরিয়ে আনে এখানে। গৃহহীনদের ৭৯ শতাংশই জীবিকার কারণে উচ্ছেদ হয়েছেন। শেষ এক বছরে পুলিশ বেশ কয়েকবার এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালিয়েছে। বিহার, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রে ঘরহারাদের উপর এই সমীক্ষা করা হয়েছে।

বিশেষ এই সমীক্ষায় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, ঘরহারারা মূলত জীবনের মূলস্রোত থেকে পুরোপুরিভাবে বিচ্ছিন্ন। শুধুমাত্র যে পরিচয় এই সংকট তৈরি করেছে তা নয়, বিভিন্ন প্রকার শোষিত হতে হয় কখনও।

দিল্লির প্রায় ২০০ টি হোমলেস শেল্টারে এই সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, পথবাসীদের জন্য নির্মিত হোমগুলিতে বেশি লোকের থাকার জায়গা নেই। এদের মধ্যে যাঁদের শারীরিক কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে, তাঁদের জন্য ওই শেল্টার হোমগুলি কতটা কার্যকরী তা নিয়েও প্রশ্নচিনহ রয়ে গেছে। এছাড়া এঁদের ৪৬ শতাংশের বয়স ৪০ এর কম এবং পেশা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

শিক্ষা ও পেশাগত যোগ্যতা বাড়ানোর কোনও সুযোগ নেই সেভাবে। পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের উপযুক্ত কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আরওই কম। আর পথে বসবাসকারীদের ৮৬.৬ শতাংশই ধর্মে হিন্দু। সেখানে মুসলিমরা রয়েছেন ৭.৮ শতাংশ ও খ্রিস্টানরা পাঁচ শতাংশ। গৃহহীনদের ৬৬.৪ শতাংশের আধার কার্ড আছে। ৩৭.৩ শতাংশের আছে রেশন কার্ড, ৩৯.৫ শতাংশের আছে ভোটার আইডি কার্ড ও ২৭.৭ শতাংশের আছে পাসবুক।

গৃহহীনদের ৩০ শতাংশের কোনও পরিচয়পত্র নেই। সমীক্ষক সংস্থার তরফে সোনু পি যাদব জানিয়েছেন, ২০১১ সালের সেন্সাসে গৃহহীনদের সম্পর্কে বিশেষ খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। কারণ তাঁরা শহরে অস্থায়ী বাসস্থানে থাকেন। দেশে ঠিক কতজন গৃহহীন, তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য নেই। এর ফলে সরকার তাঁদের কল্যাণে কোনও প্রকল্প নিলেও অনেকাংশে ব্যর্থ হয়ে যায়। কারণ প্রকল্পের সুফল কখনও সব গৃহহীনের কাছে পৌঁছায় না।

২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী দেশে গৃহহীনের সংখ্যা ১৭ লক্ষ। অর্থাৎ তা মোট জনসংখ্যার ০.১৯ শতাংশ। শতাংশের বিচারে বলা যায়, গৃহহীনের সংখ্যা আগের চেয়ে ০.০৪ শতাংশ কমেছে। কিন্তু অন্যদিকে গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে। ২০০১ সালে পথবাসী পরিবারের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ৪৭ হাজার। ২০১১ সালে বেড়ে হয়েছে ৪ লক্ষ ৪৯ হাজার।‌‌‌‌