স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ভীমদেবের কাছে যা মানত করা হয় তাই পাওয়া যায়। তাই জেলা ছাড়িয়ে ভিন জেলা থেকে ভক্তরা ভিড় জমিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার থানার ব্যবত্তার হাটে ভীমের পুজোয়। ৩০০ বছরের প্রাচীন এই পুজো তাড়াগ্যাড়া ভীমের পুজো নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

এই পুজোকে কেন্দ্র করে ১০ দিনের মেলা মেলা বসে। সেই মেলায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম ঘটে। আর সেই সমস্ত ভক্তদের দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা। অর্থের পাশাপাশি সোনা, রুপো, পিতল, কাঁসা সহ নানা জিনিসপত্র দেবতার কাছে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার নজরদারি রাখতে হিমসিম খেতে হয় পুজো কমিটি থেকে পুলিশ প্রশাসনকে।

তাড়াগ্যাড়া ভীমের উচ্চতা ২২ ফুট। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে মন্দির প্রাঙ্গণেই গড়ে তোলা হয়েছে নানা দেব- দেবীর মূর্তি দিয়ে। আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে এলাকার জমি ফসল রক্ষা, মহামারী থেকে মুক্তি ও এলাকার মানুষের মঙ্গল কামনায় ভীম পুজো শুরু হয়। কথিত আছে এখানে ভক্তরা যা প্রার্থনা করে তাই পায়। তাই ভক্তরা তাদের সাধ্যমত টাকার মালা, সোনার ও রুপোর গহনা সহ নানা জিনিস প্রদান করে থাকেন। পাশাপাশি কুইন্টাল কুইন্টাল বাতাসার মালা দেবতার গলায় পরান ও লুট দিয়ে থাকেন।

মেলার উদ্যোক্তা সুবোধ রায়চৌধুরী জানান, দীর্ঘ প্রায় ৩০০ বছর ধরে ব্যবত্তারহাটে ভীমের পুজো হয়ে আসছে। বছর বছর ভক্তদের ভিড় বেড়েই চলেছে। তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমাদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি স্থানীয় নন্দকুমার থানার পুলিশের সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে৷ মেলার কয়েকটা দিন কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মোড়া হয়ে থাকে মন্দির প্রাঙ্গণ। মেলার কয়েকটা দিন থাকে যাত্রা, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

নন্দকুমার থানার ওসি জলেশ্বর তেওয়ারি বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে প্রাচীন পুজোর নিরাপত্তার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই কারণেই আমাদের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে মন্দির এলাকায়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে সদা তৎপর আমাদের প্রতিনিধিরা।