তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ ‘আসাম জ্বলছে, বাংলা জ্বলছে, ত্রিপুরা জ্বলছে, পুরো পূর্বাঞ্চল জ্বলছে। ছ’টি রাজ্য বিরোধীতা করেছে। এরপরেও মোদী-অমিত শাহ কোম্পানী স্বয়ং সেবক সংঘকে নিয়ে এনআরসি, ক্যাব চালুর চেষ্টা করছে। সারা দেশের মানুষ সর্বশক্তি দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। শনিবার বাঁকুড়া শহরের কমরার মাঠে ‘কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ উদযাপন’ উপলক্ষে সমাবেশে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন সিপিএম রাজ্য কমিটির সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

এদিন তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে আরো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মুখে বলছেন এনআরসি চালু হতে দেবো না। অথচ এনপিআর তৈরির সার্কুলার জারি হয়েছে। এখন ‘মেগা সিরিয়াল’ চলছে দাবী করে তিনি বলেন, সিএবি-র ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এনপিআর, যা ভিত্তিতে হবে এনআরসি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন বলেও তিনি দাবী করেন।

চাইলেই দেশে এনআরসি চালু করা যাবেনা। কেন্দ্র সরকার মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরী করে ‘অর্থনৈতিক সংকট’ সহ মূল ইস্যু গুলিকে ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এই রাজ্যে তৃণমূল নিউটাউন ও বনগাঁতে ‘ডিটেনশান ক্যাম্প’ তৈরীর জন্য জায়গা দিতে চেয়েছে। এখনো ঠিক হয়নি। তবে রাজ্যে কোন ‘ডিটেনশান ক্যাম্প’ তৈরী করা তো দূরের কথা একটি ইঁটও গাঁধতে দেবেননা বলে সূর্যকান্ত মিশ্র হুঁশিয়ারী দেন।

তৃণমূলকে ‘বিশৃঙ্খল’ দল দাবী করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, এরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করছে। আবার কখনো কেউ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাচ্ছে তো আবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাচ্ছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বড় বড় কথা বলছেন, অথচ আট জন সাংসদ লোকসভায় ভোট দিলেননা। বিশৃঙ্খল একটা দল কি করে শৃঙ্খলা রক্ষা করবে বলেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এদিনের সমাবেশে সূর্যকান্ত মিশ্র ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অমিয় পাত্র, রাজ্য কমিটির সদস্যা দেবলীনা হেমব্রম, জেলা কমিটির সম্পাদক অজিত পতি প্রমুখ।