পূর্ব বর্ধমান: ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারে ফের সফলতা পেলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সকরা৷ বীরভূমের নানুর এলাকার বাসিন্দা দেবনাথ মাজির ১ বছর ৮ মাসের শিশুপুত্রের পেট থেকে অপারেশন করে বার করা হল একটি ভ্রূণ। চিকিৎসার পরিভাষায় যার নাম ফিটাস ইন ফিটু। অস্ত্রোপচারে পর শিশুটি সুস্থ আছে৷

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক ডা নরেন্দ্রনাথ মুখার্জীর নেতৃত্বে ২০ জনের একটি টিম প্রায় ২ ঘন্টার অপারেশনে শিশুর পেট থেকে ভ্রূণ বার করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জন্মের পর থেকেই সন্তানের পেটে শক্ত মত কিছু রয়েছে বলে টের পান মা লক্ষ্মী মাজি। এরপর শিশুটিকে স্থানীয় ডাক্তারদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সমস্যা না মেটায় গত ২৩ মার্চ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

গত কয়েকদিন ধরে নানা পরীক্ষার পর অবশেষে অপারেশনের দিন ঠিক করা হয়। ডা. নরেন্দ্রনাথ মুখার্জ্জী জানিয়েছেন, প্রতি ৫ লক্ষের মধ্যে একজনের শরীরে এই ধরনেরঘটনা ঘটে। চিকিৎসার পরিভাষায় একে বলা হয় ফিটাস ইন ফিটু অর্থাৎ একটি বাচ্চার মধ্যে আর একটি বাচ্চা। তিনি জানিয়েছেন, যখন তাঁর কাছে শিশুটিকে নিয়ে আসা হয় তখন শিশুটির উপসর্গ দেখেই সন্দেহ হয়। এরপর সিটি স্ক্যান করার পর তিনি নিশ্চিত হন।

শিশুর মা লক্ষ্মী মাঝি জানিয়েছেন, জন্মের পর থেকেই সন্তানের পেটে শক্ত কিছু রয়েছে বলে তিনি বুঝতে পারেন। যদিও তাতে যন্ত্রণা হত না। এরপর তারা ডাক্তার দেখান। পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করেন। ডা. নরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনায় দুটি সম্ভাবনা থাকে। হয়তো লক্ষ্মীদেবী দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দিতেন। কিন্তু তা না হওয়ায় কোনেও কারণে ভ্রূণের অংশটি ওই শিশুর পেটে চলে যায়। যদিও ঠিক কি কারণে এটা ঘটে তা নিয়ে গোটা বিশ্ব জুড়েই গবেষণা চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন।