কলকাতা: অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার পর আলোড়ন পড়ে যায় ভারতে। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে বিতর্কিত জমি পাবে হিন্দুরা এবং মুসলিমদের মসজিদ তৈরির জন্য জমি দেওয়া হবে অন্য জায়গায়। এই রায় বিজ্ঞানসম্মত নয়। এমনটাই মনে করেন সাহিত্যিক আবুল বাশার। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, অযোধ্যা মামলার ক্ষেত্রে ‘গ্রামের মোড়লে’র মতো বিচার করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই প্রসঙ্গে আবুল বাশার kolkata24x7-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “ধর্মাচরণ নিয়ে রাষ্ট্র এবং সুপ্রিম কোর্টের কথা বলা উচিৎ নায়। আইন দেখে বিচার করা উচিৎ। আমার পুরো ব্যাপারটাই অবৈজ্ঞানিক মনে হয়েছে। মানুষের বিশ্বাস তো আইন হতে পারে না। আমাদের আইনি ব্যবস্থা মানুষের বিশ্বাস দিয়ে তৈরি নয়। বিচারপতিরা যাঁরা বিচার করলেন তাঁরা সবাই পড়াশোনা করা মানুষ। তাঁরা আইনের বই পড়েছেন। আইনের বই মানুষের বিশ্বাস বা আস্থায় ভিত্তি করে লেখা হয় না।”

আরও পড়ুন: ১৫২৮ থেকে ২০১৯: রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ বিতর্কের ইতিহাস

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিছু কিছু আইনের বই পড়েছি। আইন পুরোপুরি অকাট্য যুক্তির ব্যাপার। ভাবাবেগ, অমুক তমুক নয়। কিন্তু, এঁরা তার মূল্য দিল না। কারণ এঁরা বিশ্বাসকে, আস্থাকেই আইন করে তুলল। আইনের কাজ আইন করবে। সেটা না করে আইন ধর্মের কাজ করতে লাগল। এটা বোধ হয় চৈতন্যদেবও করতেন না।’

তাঁর মতে, প্রমাণ আর যুক্তি নিয়ে আইন। আবেগ নিয়ে, আদর্শ নিয়ে, ধর্মের বিশ্বাস নিয়ে আইনের কারবার নয়। তিনি মনে করেন অযোধ্যা মামলার এই বিচারটাই ঠিক হল না। তাঁর কথায়, ‘মুসলমানের ব্যথা লাগল না, হিন্দুরা খুশি হল- সেটা আমার বলার বিষয় নয়। আমি বলতে চাই প্রমাণ আর যুক্তি দিয়ে বিচার হয়। সুতরাং এই বিচার পদ্ধতিটাই ঠিক হয়নি।

আরও পড়ুন: অযোধ্যার রায়ে ‘রিভিউ’ চাইল না সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড

এক্ষেত্রে আইনের বেসিক নিয়মগুলো লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আইনের গোড়ার কথা যেগুলো, সেগুলো লঙ্ঘিত হয়েছে। আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের সংবিধানকে পদে পদে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থাকে পদধূলি করা হয়েছে। আইনের যে স্পিরিট সেটাকে অপমান করা হয়েছে, অবজ্ঞা করা হয়েছে।’

তিনি মনে করেন, ”এমন বিচার গ্রামের মোড়লেরা করে থাকে। গ্রামের মোড়ল যেমন বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট সেরকম বিচার করেছে– তুমিও ভাল, সে-ও ভাল। দুজনকেই জমি দিলাম, তোমরা খুশি থাকো। এইভাবে দুম করে একটা সমাধান করে দিয়েছে। কিন্তু, এই বিচার আইনসম্মত হয়নি। কারণ এ ক্ষেত্রে আইন, আইনের আচরণ করেনি। সুপ্রিম কোর্ট সুপ্রিম কোর্টের আচরণ করেনি। সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। পুরো ব্যাপারটা বেআইনি হয়েছে।”