কলকাতা: রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার গৌরব দত্ত৷ বেশ কয়েক মাস আগে আত্মঘাতী হন৷ তার মৃত্যু ঘিরে দেখা দেয় বিতর্ক৷ সেসময় এনিয়ে আত্মঘাতী গৌরব দত্তের স্ত্রী শ্রেয়সী দত্ত সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন৷ পরে অবশ্য তিনি শীর্ষ আদালত কে জানান,মামলা তুলে নিতে চান।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আত্মঘাতী গৌরব দত্তের স্ত্রী শ্রেয়সী দত্ত সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেন, পরে তিনি তা তুলে নেওয়ার আবেদন করেন৷ তার কথায় যে সময় তিনি মামলা করেছিলেন সেই সময় সঠিক মানসিক স্থিতিতে ছিলেন না৷ এই বিষয় শীর্ষ আদালত তার নিজের মুখেই শুনতে চায়৷ কেন তিনি মামলা তুলে নিতে চাইছেন৷

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার গৌরব আত্মঘাতী হন৷ তাঁর সল্টলেকের বাড়ি থেকে হাতের শিরা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়৷ ওই ঘরে সুইসাইড নোট পাওয়া যায়৷ সেখানে গৌরব তাঁর মৃত্যুর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছিলেন। এরপরই মৃত্যু নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক৷ মৃত্যুর আগে ওই চিঠিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস গৌরব দত্ত।

নবান্নের ঠিকানায় ওই চিঠির শেষের দিকে তিনি লেখেন, ম্যাডাম চিফ মিনিস্টার, আশা করছি আমার এই পদক্ষেপ আপনার কালো হৃদয়ে পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে যারা সরকারের সন্তুষ্ট না করে, বরং আইনের পরিধির মধ্যে থেকে কাজ করবে, সেই সব আইপিএস অফিসারদেরও চোখ খুলে দেবে। কারণ, সরকারের কাছে সব আইপিএস অফিসারই আসলে ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার বস্তু৷ একদিন না একদিন তা হবেই। এটাই একমাত্র এই সরকারের ধর্ম।

১৯৮৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার গৌরব দত্ত ছিলেন রাজ্য পুলিশে আইজি পদমর্যাদার অফিসার। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তিনি অবিভক্ত মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ সহ তিনটি জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্বে ছিলেন। মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার থাকাকালীন তাঁর নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়৷ তাঁর কর্মজীবনের শেষের দিকে তৃণমূল আমলে দীর্ঘ দিন কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে ছিলেন তিনি৷

কম্পালসারি ওয়েটিংয়ের জেরে সরকারের কাছে গৌরব দত্তের বকেয়া ছিল পেনশনের ৩৮ লক্ষ এবং গ্র্যাচুইটির ২০ লক্ষ টাকা। সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া তাঁর চিঠিতে৷ তিনি লিখেন, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার খরচও জোগাড় করতে পারা যাচ্ছে না৷