নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার শবরীমালা এবং রাফায়েল মামলার রিট পিটিশনের রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার রায় দেওয়া হবে। কয়েক শতাব্দীর বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে রামমন্দির তৈরিতে সিলমোহর দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। এখানেই শেষ নয়, অবসরের আগে আরও দুই বহুচর্চিত মামলার নিষ্পত্তি হতে চলেছে রঞ্জন গগৈ-এর হাতে। শবরীমালা এবং রাফায়েল মামলার রিট পিটিশনের রায় দেবেন গগৈ।

কেরলের শবরীমালা মন্দিরে দশ বছরের কম এবং ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে অর্থাৎ ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশাধিকার ছিল না। শতাব্দী প্রাচীন এই প্রথা তুলে দিয়ে সব বয়সের মহিলাদের প্রবেশাধিকার দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের সেই ঐতিহাসিক রায়ের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতেই রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন মন্দিরের পরিচালন কর্তৃপক্ষ— ত্রিবাঙ্কুর দেবস্থানম বোর্ড। বোর্ডের দাবি ছিল, সাধারণ মানুষের শতাব্দীপ্রাচীন প্রথা বা বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করতে পারে না আদালত। তাই রায় পুনর্বিবেচনা করুক শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কেরল সরকার রায় সমর্থন করে বলেছিল, কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হলে তাতে আদালত হস্তক্ষেপ করতেই পারে। নারী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠনও এই মামলায় পক্ষ হয়। তারাও রায়কে স্বাগত জানায়। তাঁদের যুক্তি ছিল, শুধুমাত্র ঋতুমতী হওয়ার কারণে মন্দিরে ঢোকা নিষিদ্ধ করা মহিলাদের প্রতি বৈষম্যের সামিল এবং সংবিধান বিরোধী। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলার রায় সংরক্ষিত রাখে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

পাশাপাশি শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফায়েল মামলা। ফায়েল নিয়ে আগেই সরকারকে ক্লিনচিট দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকারি অফিসাররা রাফায়েল চুক্তি নিয়ে অনেক কথা কোর্টের কাছে গোপন করেছেন। রায় পুনর্বিবেচনার জন্য তারা আবেদন করেছে। এই নিয়ে দ্রুত শুনানির জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, রাফায়েল চুক্তি নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। কংগ্রেসের অভিযোগ, সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই চুক্তি করা হয়েছিল। ফলে বেশি দাম দিয়ে বিমান কিনতে হয়েছে। ওই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি অনিল অম্বানিকে বিপুল মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া।

সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু তার রায়ে বলে, কোনও বেসরকারি সংস্থাকে বাণিজ্যিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণ নেই। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ বলে, দু’পক্ষের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে শুনে আমাদের মনে হয়েছে, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়।