নয়াদিল্লি: দেশের ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তারা একটি মামলাও দায়ের হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কেন্দ্রের ‘জাতীয় পরিকল্পনা’ কী, তা তারা জানতে চেয়েছে। এই মর্মে কেন্দ্রকে একটি নোটিসও দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।শুক্রবার সেই মামলার শুনানির উপর মুলতুবি ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। ২৭ এপ্রিল, মঙ্গলবার আবার এই মামলার শুনানি হবে।

মামলার শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ সিং, অক্সিজেনের ঘাটতি নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে বিশেষ নজর দিতে বলেন। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছে এটা উদ্বেগের বিষয়।

অন্যদিকে শুনানির পর বিচারপতি এল নাগেস্বর রাও এবং বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাট সহ প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে দ্বারা গঠিত বেঞ্চ হরিশ সালভকে আদালতবান্ধব-এর পদ থেকে পদত্যাগ করার অনুমতি দিয়েছে। প্রসঙ্গত,সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পাল্টা মামলা করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। প্রধান বিচারপতি এই মামলায় হরিশ সালভেকে আদালতবান্ধব নিয়োগ করেছিল।

গত কালই শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রের মূলত চারটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। সেগুলি হল অক্সিজেন সরবরাহ, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সরবরাহ, টিকাকরণের পদ্ধতি এবং লকডাউনের ক্ষমতা কার কাছে থাকবে।

প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেছিলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় জরুরি অবস্থার সমান। এ বিষয়ে আমরা একটা জাতীয় পরিকল্পনা জানতে চাই। আমাদের প্রধান চারটে বিষয় জানার আছে। সেগুলি হল, অক্সিজেনের সরবরাহ, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সরবরাহ, টিকাকরণের পদ্ধতি ও লকডাউনের ক্ষমতা রাজ্যের হাতেই থাকবে কি না। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে কেন্দ্রকে একটি ‘জাতীয় পরিকল্পনা’ বানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তড়িঘড়ি একটি নির্দেশিকা বের করে। কেন্দ্র আইসিএমআরকে জানিয়েছে, ড্রোনে করে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা যায় কি না, তা পরীক্ষা করে দেখতে পারবে তারা।

সুপ্রিম কোর্ট মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতে চাইছে বলে মনে হলেও বিরোধীরা মনে করছেন, শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপে আখেরে কেন্দ্রেরই সুবিধে হয়ে যাবে। কারণ দেশের ছ’টি হাই কোর্টে কোভিড মোকাবিলায় অব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা চলছে। দিল্লি, কলকাতা ও বম্বে হাই কোর্টে কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন বিচারপতিদের তোপের মুখে পড়েছে। অক্সিজেনের অভাব, লাগামছাড়া জনসভা নিয়ে কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীরা আদালতের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.