নয়াদিল্লি: ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ বন্ধ হবে না। শনিবার এমনই রায় জানাল শীর্ষ আদালত। তবে ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপ বা ট্যুইটার, ইউটিউবে যাতে অশালীন ভিডিও আপলোড করা না যায়, সে ব্যাপারে কেন্দ্রকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি ফেসবুক, হোয়াট্‌সঅ্যাপে অশালীন ভিডিও পোস্টের তদন্তভার সিবিআইকে দিল আদালত।
আদালত সূত্রের খবর, ফেসবুক, হোয়াটস্‌অ্যাপের নিষিদ্ধকরণের আবেদন এদিন খারিজ করে দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মদন বি লোকুর এবং ইউ ইউ ললিতের ডিভিশন বেঞ্চ এই আবেদন খারিজ করে দেয়। তবে এই সমস্ত সাইটে যাতে অশালীন ভিডিও আপলোড করা না যায়, সে ব্যাপারে কেন্দ্রকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়। ফেসবুক, হোয়াটস্‌অ্যাপের নিষিদ্ধকরণের আবেদনের ভিত্তিতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রাজওয়ালাকে লোকুর এবং ললিতের ডিভিশন বেঞ্চের পাল্টা দাবি, “আপনি এখন নেটওয়ার্কিং সাইট নিষিদ্ধ করতে বলছেন। পরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করতে বলতে পারেন। এটা কোনও সমাধান নয়।’’ তবে কে ভিডিওটি আপলোড করেছে, তার তদন্তভার সিবিআইকে দিল আদালত। পাশাপাশি সোশ্যাল সাইটে অশালীন ভিডিও, ছবি পোস্ট বন্ধ করা জরুরি দাবি জানিয়ে আদালতের তরফে জানানো হয়, বর্তমানে ফেসবুকে শিশু যৌন উৎপীড়কের প্রায় ৩ হাজার ভিডিও এবং মহিলাদের অশ্লীল ছবি পোস্ট রয়েছে। এর মধ্যে নাবালিকাদের ছবিও রয়েছে। শুধু পোস্টই নয়, এই ছবি এবং ভিডিওর অনেক শেয়ারও রয়েছে। তাই এই সমস্ত অশালীন ভিডিও এবং ছবি পোস্ট বন্ধ করার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।   
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মুম্বইয়ে ধর্ষণের একটি ভিডিও হোয়াটস্‌অ্যাপে এবং যৌন চক্র নিয়ে একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করা হয়। তারপর দ্রুততার সঙ্গে ওই দুটি অশালীন ভিডিও সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়ে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়ে মামলা দায়ের করে হায়দ্রাবাদের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘প্রাজওয়ালা’। ফেসবুক এবং হোয়াটস্‌অ্যাপ বন্ধ করার দাবিও জানায়। এরপরই কে ফেসবুক এবং হোয়াটস্‌অ্যাপে অশালীন ভিডিও দুটি ভিডিও আপলোড করেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু কারওর হদিশ মেলেনি। মোবাইল থেকে ভিডিওটি আপলোড হওয়ার ফলেই কে আপলোড করেছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। কম্পিউটার থেকে আপলোড করলে বোঝা যেত বলে পুলিশ জানায়।