১৫০ বছরের বিতর্কের ইতি টানল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। অযোধ্যা মামলায় বিতর্কিত জমি নিয়ে রায় দিল শীর্ষ আদালত। জানিয়ে দিল যে বিতর্কিত জমিতেই হবে রাম মন্দির। ৯ নভেম্বর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ।

তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ- এর নেতৃত্বে শীর্ষ আদালত সর্বসম্মতিক্রমে এই রায় দেয়। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও সাংবিধানিক বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চান্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ এবং এস আব্দুল নাজির। এই রায়ে বলা হয়,অযোধ্যার বিতর্কিত জমি পাচ্ছেন হিন্দুরাই, তৈরি হবে রাম মন্দির। বিতর্কিত জমি বাদে অযোধ্যায় ৫ একর জমি দেওয়া হবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে। সেখানে তৈরি হতে পারে মসজিদ।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১০ এলাহাবাদ হাইকোর্টের তিন বিচারপতির স্পেশাল বেঞ্চ অযোধ্যর বিতর্কিত জমিকে তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়ার রায় দিয়েছিল। কিন্তু উক্ত রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তিন পক্ষই। টানা ৪০ দিন শুনানির পর প্রধান বিচারপতির পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ অবশেষে অযোধ্যা মামলায় রায়ের দিন ঘোষণা করে। সর্বসম্মতিক্রমে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ১০৪৫ পাতার সুদীর্ঘ রায় ঘোষণা হয়।

আদালতের রায়ে বিচারপতিরা ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া) একটি বিশেষ রিপোর্টও উল্লেখ করেন। যাতে বলা হয়েছিল বাবরি মসজিদের নিচে একটি স্থাপত্য ছিল বলে প্রমাণ মিলেছে৷ তবে সেই কাঠামোটি ঠিক কীসের, তা স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। কিন্তু মুসলিম সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড স্থাপত্য যে মুসলিমদের তরফে কোনও নথি আদালতে পেশ বা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি৷

বাবরি মসজিদ কোনও ফাঁকা জমিতে গঠিত হয়েছিল তার প্রমাণ দিতে পারেনি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

দেশের হিন্দু সমাজের একটা বড় অংশ মনে করেন, তাদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থানের ওপরই ওই বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তার সপক্ষে ও বিপক্ষে দু’টি সিভিল স্যুট মামলা দাখিল হয় এবং সেই থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং সেই মামলারই নিস্পত্তি হয় নভেম্বরে।