নয়াদিল্লি: মাসের পর মাস ধরে গৃহবন্দি জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমরের মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা তাঁর বোন সারা আবদুল্লা পাইলটের। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জম্মু কাশ্মীর প্রশাসনকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২ মার্চের মধ্যে প্রশাসনকে সেই নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের।

উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে সেখানকার একাধিক নেতাকে গৃহবন্দি করে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভূস্বর্গের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করেই জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি মোদী সরকার ওমর ও মেহবুবার উপর জন সুরক্ষা আইন প্রয়োগ করায় সেই বন্দিদশা আরও বাড়ছে। জন সুরক্ষা আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তিকে আদালতে না নিয়ে গিয়েও সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত আটক করে রাখা যাবে।

জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর অশান্তির আশঙ্কায় আগেভাগেই একাধিক পদক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় সরকার। গোটা উপত্যকা দখলে নিয়ে নেয় সেনা। জায়গায় জায়গায় চলে সেনা-পুলিশের টহলদারি। ভূস্বর্গে সভা-জমায়েত নিষিদ্ধ করে সরকার। ইন্টারনেট, কেবল টিভি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়ে আশান্তি দমনের চেষ্টা হয়। এরই পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের উপর চলে কড়া নজরদারি।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও আরও এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হয়। যদিও কাশ্মীরে কেন্দ্র বাড়াবাড়ি করছে বলে অভিযোগ তোলে বিরোধীরা। এমনকী বিরোধী দলের নেতাদের কাশ্মীর সফরেও প্রাথমিকভাবে অলিখিতভাবে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়।

শ্রীনগরে দলেরই বর্ষীয়ান নেতা ইউসুফ তারিগামীর সঙ্গে দেখা করতে যাওযার ক্ষেত্রে প্রথমে কেন্দ্রের বাধার মুখে পড়েন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ইয়েচুরিকে কাশ্মীরে যেতে দেয় কেন্দ্র।