নয়াদিল্লি: ‘‘একজন নাগরিককে কতদিন আটক রাখা যায়? জম্মু কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আরও কতদিন আটক রাখার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের?’’ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কাউলের এই প্রশ্নে কার্যত হতচকিত হয়ে পড়েন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

বিনা বিচারে তাঁর মাকে দিনের পর দিন ধরে আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করার আবেদন করেছিলেন মুফতি-কন্যা ইলতিজা। ইলতিজা মেহবুবার আবেদনের ভিত্তিতেই সলিসিটর জেনারেলকে এই প্রশ্ন করেন বিতারপতি। আদালতের প্রশ্নের জবাব দিতে সময় চেয়েছেন সরকারি আইনজীবী। এরপরেই আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদনের শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায় সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট জম্মু কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। রপরেই ভূস্বর্গে অশান্তির আশঙ্কায় একাধিক রাজনৈতিক নেতাকে কার্যত ‘বন্দি’ করে প্রশাসন। উপত্যকায় সবরকম রাজনৈতিক জমায়েতে নিষেধাজঞা জারি করা হয়।

জম্মু কাশ্মীরের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতিকে আটক করে প্রশাসন। এছাড়াও আরও বশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকেও ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়। কয়েক মাস আগে প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লা ও তাঁর পুত্র ওমর আবদুল্লাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ‘গৃহবন্দি’ দশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় আরও কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকেও।

তবে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আরও এক বছরের জন্য আটক রাখার নির্দেশিকা জারি করে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই উপত্যকার একাধিক দল বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র-বিরোধিতায় সরব হয়েছে। মেহবুবা মুফতির কন্যা ইলতিজা মেহবুবা তাঁর মায়ের বন্দিদশায় হস্তক্ষেপ করতে সুপ্রিম কোর্টকে আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনের শুনানি হয় মঙ্গলবার।

বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কাউল সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে কার্যত তিরষ্কার করে বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিককে সর্বোচ্চ কতদিন আটকে রাখা যায়? জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে কতদিন আটকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে?’

শীর্ষ আদালতের বিচারপতির এই প্রশ্নে হতচকিত হয়ে পড়েন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শেষমেশ আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদনের শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায় সর্বোচ্চ আদালত।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।