বেঙ্গালুরু: প্রথমবারের বাধা কাটিয়ে দ্বিতীয়বার মহাকাশে যাওয়ার জন্য তৈরি চন্দ্রায়ন-২। শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্টডাউন। সোমবার দুপুরে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে ভারতের তৈরি সেই মহাকাশযান। এইসব অভিযানের নেপথ্যে থাকে তাবড় বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা।

কিন্তু অনেকেই জানেন না যে দেশের এই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাকেন্দ্রের অন্দরেও বাসা বেঁধে আছে কুসংস্কার। প্রত্যেক অভিযানের সাফল্যের পিছনেই থাকে বিজ্ঞানীদের কিন্তু বিশ্বাস। কেউ পুজো করে তবেই অভিযানের সূচনা করেন, কেউ আবার অভিযানের দিন নতুন শার্ট পরে আসেন।

রাহুল কালামে কোনোভাবেই রকেট লঞ্চের কাউন্টডাউন শুরু করেন না ইসরোর বিজ্ঞানীরা। রাহু কালাম অর্থাৎ রাহুল গ্রহের দেড় ঘণ্টা অশুভ বলে ধরা হয়। এক বিজ্ঞানী ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, যে সময়ে কক্ষপথ পেরবে রকেট, সেটি যেন শুভ সময়ে হয়। তাই রকেট লঞ্চের সময় অশুভ সময়ের মধ্যে পড়ে। কিন্তু কাউন্টডাউন শুরু করা হয় শুভ সময়ে।

এছাড়া ঐতিহ্য মেনে অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালায় ভেঙ্কটেশ্বর মন্দিরে পুজো দেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। সেখানে গিয়ে ভগবানের পায়ে রাখা হয় রকেটের একটি রেপ্লিকা। তবে বর্তমানে শ্রীহরিকোটার আশেপাশে আরও অনেক মন্দিরেও পুজো দেন জুনিয়র বিজ্ঞানীরা।

শুধু রকেট লঞ্চ করার আগেই নয়, রকেট তৈরির বিভিন্ন ধাপেও পজো দিয়ে কাজ শুরু করার রীতি আছে।

ইসরোর এক অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, একজন প্রজেক্ট ডিরেক্টর ছিলেন, যিনি রকেট লঞ্চ করার দিনে নতুন শার্ট পরে আসতেন।

এছাড়া ইসরোর রকেটের তালিকা থেকে কেন PSLV-C13 মিসিং, তার জবাব দিতে পারেন না অনেকেই। PSLV-C12 লঞ্চ করার পর একেবারে PSLV-C14 লঞ্চ করা হয়। ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, ১৩ সংখ্যাটা ইসরোর কাছেও ‘আনলাকি’। তাই ওই নামে কোনও রকেট লঞ্চ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, আমেরিকান স্পেস এজেন্সির Apollo-13 ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর অন্য কোনও মিশনের আর ১৩ দিয়ে নামকরণ করা হয়নি।

তবে মঙ্গল অভিযানের ক্ষেত্রে সেই সংস্কার কিছুটা ভাঙা হয়েছিল। কোনও অভিযানই হয় না মঙ্গলবারে। এই দিনটিকে অশুভ বলেই ধরা হয়। কিন্তু ওই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত এক গবেষক আবার মঙ্গলবার দিনটি শুভ বলে মনে করেন। তাই ওই অভিযান হয় মঙ্গলবারে। ইসরোর প্রাক্তন অধিকর্তা সংবাদসংস্থাকে বলেন, ‘সবটাই নিজের নিজের বিশ্বাস। কিন্তু ভগবান কিংবা বিষের সঙ্গে তো কোনও ঝুঁকি নেওয়া যায় না।’