দুবাই: একদলের কাছে ম্যাচটা ছিল ডু অর ডাই। অন্য আরেকটি দলের কাছে প্লে-অফ নিশ্চিত করার সুযোগ। কিন্তু মঙ্গলবার দুবাইয়ে ব্যাটে-বলে অনবদ্য সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দ্বিতীয়স্থানে থাকা দিল্লি ক্যাপিটালসকে ৮৮ রানের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে প্লে-অফের স্বপ্ন টিকে রইল সানরাইজার্সের। অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচ হেরে প্লে-অফের অংক কিছুটা হলেও জটিল করে ফেলল দিল্লি ক্যাপিটালস।

বড় রানের বোঝা মাথায় নিয়ে রান তাড়া করতে নেমে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যাটিং লাইন-আপ। সৌজন্যে আফগান লেগ-স্পিনার রশিদ খানের চলতি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ইকোনমিক স্পেল। তাঁকে যোগ্য সহযোগীতা করে গেলেন সন্দীপ শর্মা, টি নটরাজনরা। ২২০ রান তাড়া করতে নেমে এদিন প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় দিল্লি। ধাওয়ানকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন সন্দীপ শর্মা। দ্বিতীয় ওভারে মার্কাস স্টোইনিসকে ফিরিয়ে ভিত নড়িয়ে দেন শাহবাজ নাদিম। দিল্লি ইনিংসের সপ্তম ওভারে শুরু রশিদ ম্যাজিক।

ক্রিজে সবে থিতু হওয়া দুই ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমেয়ার এবং আজিঙ্কা রাহানেকে একই ওভারে ফিরিয়ে মেরুদন্ডটাই ভেঙে দেন আফগান স্পিনার। হেটমেয়ার ফেরেন ১৬ রানে। রাহানে করেন ২৬ রান। এরপর মাত্র ৭ রানে বিজয় শংকরের শিকার দিল্লি অধিনায়ক শ্রেয়স। দ্বাদশ ওভারে ৭৮ রানে ৫ উইকেট খোয়ানো দিল্লি শিবির এরপর কেবল ধসে পড়ার অপেক্ষায় ছিল। ৩৫ বলে ৩৬ রান করে কিছুটা সেই ধস রোধের চেষ্টা করেছিলেন ঋষভ পন্ত। কিন্তু হায়দরাবাদ বোলিংয়ের সামনে তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। শেষ অবধি এক ওভার বাকি থাকতেই ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় দিল্লি। চার ওভারে মাত্র ৭ রানে ৩ উইকেট নেন রশিদ খান। দু’টি করে উইকেট সন্দীপ শর্মা এবং টি নটরাজনের।

তার আগে দুবাইয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ঋদ্ধিমান সাহার ব্যাটে ঝড়। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে এদিন সানরাইজার্সের হয়ে ওপেনে নেমেছিলেন পাপালি। আর ওপেনে নেমেই জানান দিলেন নিজেকে প্রমাণের জন্য যে তিনি কতটা মরিয়া ছিলেন। দুবাইয়ে এদিন দিল্লির বিরুদ্ধে মাত্র ৪৫ বলে ৮৭ রানের বিস্ফোরক ইনিংস এল পাপালির ব্যাট থেকে। তাঁর পাশাপাশি ঝোড়ো ইনিংস খেললেন ডেভিড ওয়ার্নার। অজি ওপেনারের ব্যাট থেকে এল ৩৪ বলে ৬৬ রানের ইনিংস। যা সাজানো ছিল ৮টি চার এবং ২টি ছয়ে।

দুই ওপেনারের ১০৭ রানের পার্টনারশিপই বড় রানের ভিত গড়ে দেয় হায়দরাবাদের। দুই ওপেনারের হাত ধরে এদিন চলতি টুর্নামেন্টে পাওয়ার প্লে’তে সর্বাধিক ৭৭ রানও তুলল সানরাইজার্স। ওয়ার্নার এবং ঋদ্ধি আউট হওয়ার পর দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যান মনীশ পান্ডে এবং কেন উইলিয়ামসন জুটি। মনীশের ৩১ বলে ৪৪ রানের ইনিংসে দু’শোর গন্ডি পেরিয়ে যায় সানরাইজার্স। মনীশের ইনিংসে ছিল ৪টি চার এবং ১টি ছয়। ১০ বলে ১১ রানে অপরাজিত থেকে যান উইলিয়ামসন। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২১৯ রান তোলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

দেশে এবং বিদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে টানা দু'দশক ধরে কাজ করেছেন । বাংলাদেশ থেকে মুখোমুখি নবনীতা চৌধুরী I