নয়াদিল্লি: দ্রুত অযোধ্যা মামলার নিষ্পত্তির জন্য প্রত্যেকদিন শুনানি চলছিল অযোধ্যা মামলার। সুপ্রিম কোর্টে বুধবার সেই মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। এবার রায়ের অপেক্ষা। জানা গিয়েছে, রাম মন্দিরের জন্য অযোধ্যার বিতর্কিত জমি দিতে কোনও আপত্তি নেই সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের। অর্থাৎ ওই জমিতে নিজেদের দাবি ছেড়ে দিতে চাইছে তারা।

ধ্বংস হওয়া বাবরি মসজিদের জমি দেওয়ার পাশাপাশি ওয়াকফ বোর্ড চাইছে, অযোধ্যায় থাকা মসজিদগুলি যেন সরকার নতুন করে সাজিয়ে দেয়। ওয়াকফ বোর্ডের দাবি, অন্য যে কোনও জায়গায় মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হোক। সুপ্রিম কোর্টে মধ্যস্থতাকারী প্যানেলের দেওয়া রিপোর্টে এই তথ্য রয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী প্যানেলের তরফে বলা হয়েছে, ওয়াকফ বোর্ড ‘আর্কিটেকচারাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’র মসজিদগুলির একটি তালিকা তৈরি করতে পারে।সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ কমিটি তার মধ্যে থেকে বেছে নেবে, কোন জায়গাগুলিতে প্রার্থনা করা যাবে।

শোনা যাচ্ছে, আগামী ১৭ নভেম্বর এই মামলার চূড়ান্ত রায় জানাতে পারে সুপ্রিম কোর্ট।

বুধবার শুনানি চলাকালীন হিন্দু পার্টির আনা একটি কাগজ ছিঁড়ে নতুন তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার অভিযোগ আসে মুসলিম পার্টি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে। চূড়ান্ত শুনানির দিনে যা নিয়ে উত্তেজনা চরমে পৌঁছোয়।

শুনানিতে রামজন্মভূমির পক্ষে সওয়াল করতে ওঠেন প্রবীণ আইনজীবী কে পরাসরণ। সওয়ালে তিনি জানান, শতাব্দী ধরে রামের এই জন্মস্থানটিকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে হিন্দুরা। মুসলিমরা যে কোনও মসজিদে প্রার্থণা করতে পারে। অযোধ্যায় ৫০-৬০টি মসজিদ রয়েছে। মুসলিমদের জন্য সব মসজিদই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই বিশেষ জায়গাটি রামের জন্মস্থান। কারও জন্মস্থান বদল করা যায় না বলে মন্তব্য করেন প্রবীণ এই আইনজীবী। শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট হিন্দু মহাসভার একটি আবেদন বাতিল করে দেয়। এরপরই প্রধান বিচারপতি কারজ্য ক্ষুব্ধ হয়েই বলেন, এনাফ ইজ এনাফ।