সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে ১৯৬৯ সালে সত্যজিত রায় ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ ছবিটি করেছিলেন।কিন্তু সেই ছবি দেখে পছন্দ হয়নি সুনীলের। কারণ তার উপলব্ধি সেভাবে ছবিতে উঠে আসেনি।অরণ্যের দিনরাত্রি’র পরতে পরতেও মিশে আছে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়৷ তাঁর জীবনের একেবারে প্রথমদিকের ছায়াই ধরা ছিল উপন্যাসে৷

সত্যজিতের করা এ ছবিতে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা ঠাকুর, রবি ঘোষ প্রমুখ৷ বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা ছবির নমিনেশন পেয়েছিল ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’৷ তবে পরের বছরই অবশ্য সত্যজিতের তৈরি তাঁর ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ দেখে পছন্দ হয়েছিল সুনীলের। কারণ সুনীলের মনে হয়েছিল তাঁর লেখা গল্পের মূল স্পিরিটটা এই চলচ্চিত্রেও পাওয়া গিয়েছিল।

ফলে লেখক হিসেবে এই চলচ্চিত্রের ব্যাপারে তিনি খুশি হয়েছিলেন। অন্যদিকে আবার প্রতিদ্বন্দ্বী’-র ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকায় সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন, সুনীলের কাহিনি নেওয়ার একটা কারণ হচ্ছে সুনীলের সংলাপ ও সিচুয়েশনগুলো ফিল্মের পক্ষে অনেকটা সুবিধাজনক।

সত্যজিৎ রায় বলে নয় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প থেকে অনেকেই ছবি করেছেন। তাদের মধ্যে তপন সিংহ, মৃণাল সেন, গৌতম ঘোষের মতো বিখ্যাতদের পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালকেরাও আছেন। এই প্রসঙ্গে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিমত, তাঁর রচনার চলচ্চিত্র রূপের যে কয়েকটি তিনি দেখেছিলেন তার চেয়ে না-দেখা চলচ্চিত্রের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া তাঁর বহু কাহিনি নিয়ে ছবি হলেও সেগুলির অধিকাংশ সম্পর্কেই তিনি বীতশ্রদ্ধ ছিলেন।

বিশেষত কয়েকটি সম্পর্কে অন্যদের মুখে এতই শোচনীয় রিপোর্ট পেয়েছিলেন যে ছবি দেখতেই যাওয়ার ইচ্ছে হয়নি। যেমন তাঁর ‘অর্জুন’ উপন্যাসটি নিয়ে একটি বাংলায় চলচ্চিত্র হয়েছিল। যখন শুনলেন তার প্রিয় অর্জুন চরিত্রটিকে খুবই বিকৃত করা হয়েছে তখন আর ওই ছবি দেখারই ইচ্ছে হয়নি তাঁর।

তবে তাঁর ‘মনের মানুষ’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত গৌতম ঘোষের ছবিটি দেখে রীতিমতো মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। লালনকে তিনি যেভাবে কল্পনায় দেখেছিলেন চলচ্চিত্রের লালনও তেমনভাবেই ভাবে ফুটে উঠেছিল। তবে এর আগে গৌতম ঘোষের সঙ্গে তাঁর ‘দেখা’ ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন সুনীল।

’৮৪-তে দূরদর্শনের জন্যে তাঁর কাহিনি নিয়ে হিন্দিতে ছবি করেছিলেন মৃণাল সেন ‘তসবির আপনি আপনি’। আবার ১৯৭৯ সালে তপন সিংহ করেন ‘সবুজ দ্বীপের রাজা’।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সিরিজের এই বিখ্যাত গল্পে আন্দামানের নিবিড় একাকীত্বের সৌন্দর্যময় প্রাকৃতিক পরিমণ্ডলে দেশের সভ্যসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন বন্য জারোয়াদের অকৃত্রিম মানবপ্রীতিকে বিবৃত করেছেন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে। তার ওই মানবিক ভাবনাকেই সিনেমায় ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছিলেন তপন সিংহ।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।