স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ফের বড় ধাক্কা খেল বিজেপি। মাত্র ২ মাসের মধ্যেই বিজেপির হাতছাড়া হয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনার গারুলিয়া পুরসভা। সোমবার কোন ভোটা ভুটি ছাড়াই নির্বিঘ্নেই গারুলিয়া পুর বোর্ড দখল নিল তৃণমূল কংগ্রেস।

গত ১৫ দিন আগে গারুলিয়া পুরসভার পুরপ্রধান সুনীল সিংয়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূলের ১২ জন প্রতিনিধি তারা সেই মর্মে পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার ও মহকুমাশাসককে চিঠি দেন এই বিষয়ে।

সেই অনাস্থা প্রস্তাবের ১৫ দিন পূর্ন হয় আজ সোমবার। সেইমত বৈঠক ডাকার কথা ছিল পুরপ্রধান সুনীল সিংয়ের। কিন্তু তিনি কোনও বৈঠক না ডেকে সোমবার সরাসরি পুরপ্রধান হিসেবে তার পদত্যাগ পত্র জমা করে দেন। কারন নোয়াপাড়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক সুনীল সিং -এর হাতে পুর বোর্ড গঠন করার মত প্রয়োজনীয় সংখ্যক কাউন্সিলর না থাকায় এদিন তিনি পদত্যাগ করেন এবং পদত্যাগ পত্র মহকুমাশাসকে পাঠিয়ে দেন।

দু’মাস আগে নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা গারুলিয়া পুরপ্রধান সুনীল সিং দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর হাত ধরেই সেই সময় গারুলিয়া পুরসভার ১০ জন তৃণমূল কাউন্সিলর ও ১ জন কংগ্রেস কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দেন। ফলে সুনীল সিং সহ ১২ জন কাউন্সিলর বিজেপির হওয়ায় খুব সহজেই গারুলিয়া পুরসভা তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এই ঘটনার দু’মাসের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া কাউন্সিলরদের মধ্যে ৪জন বিজেপি থেকে ফিরে আসেন তৃণমূলে।

এর ফলে গারুলিয়া পুরসভার ২১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে তৃণমূলের পক্ষে ১৩ জন কাউন্সিলর হওয়ায় ১৫ দিন আগে সুনীল বাবুর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সোমবার সুনীলবাবু পুরপ্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে গারুলিয়াতে তৃণমূলের বোর্ড গঠন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

সুনীল বাবু এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল আর আমার কাছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন ছিল না। তাই আমি কোনও বৈঠক না ডেকে সরাসরি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলাম।

নতুন যে পুরবোর্ড গঠন হবে তাদের আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব। গারুলিয়ার মানুষদের যদি আমার থেকে ভালো কেউ পরিষেবা দেয় তাহলে আমরা সবাই তাদের সমর্থন করবো।” তিনি আরো বলেন যে, ” বিজেপিতে যোগ দেওয়া যে সব প্রতিনিধি তৃণমূলে ফিরেছেন তাদের ভয় ও প্রলোভন দেখানো হয়েছে তৃণমূলে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য। আমি কোনও ভয় আর প্রলোভন দেখাইনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য। যারা তৃণমূল ছেড়ে এসেছিল তারা আবার তৃণমূলে কেন চলে গেছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

অপর দিকে তৃণমূল নেতা তথা পুরপ্রতিনিধি সঞ্জয় সিং জানান যে,”সুনীল সিং এর আজই বৈঠক ডাকার কথা ছিল কিন্তু সংখ্যা না থাকায় তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে আমরা শুনলাম। কাল থেকে ১৫ দিন অফিস ছুটি এই পূজোর মরশুমে যাতে মানুষ পরিষেবা পান তার জন্য পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারকে আমরা লিখিত আকারে জানাচ্ছি যাতে গঙ্গার ঘাট গুলি ঠিক করা হয়।” বর্তমানে গারুলিয়া পুরসভায় তৃণমূল ১৩,বিজেপি ৭ ও ফরওয়ার্ড ব্লক ১।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।