প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়ার তৃণমূল নেতা বিকাশ বসুর খুনের ঘটনায় অধরা দুষ্কৃতীদের শাস্তি ও যথাযথ তদন্ত চাইলেন বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়ার স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক সুনীল সিং।

নোয়াপাড়ার তৃণমূল নেতা বিকাশ বসু খুন হয়েছিলেন ২০০০ সালের পয়লা এপ্রিল। সেই খুনের ঘটনায় প্রকৃত দোষীরা এখনও অধরা। ওই খুনের ঘটনার পর কেটে গেছে ২০ বছর। বিকাশ বসুর স্ত্রী মঞ্জু বসু দুবারের তৃণমূল বিধায়কও হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কিন্তু তা সত্ত্বেও খুনের বিচার হয়নি আজও।

সোমবার বিকাশ বসুর ২০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার মূর্তিতে মাল্যদান করতে এসে মঞ্জু বসুকে পাশে নিয়ে বিকাশ বসুর খুনের ঘটনার বিচার চাইবেন বলে প্রকাশ্যে বললেন বারাকপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী।

এদিন ইছাপুর স্টোর বাজারে বিকাশ বসুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করতে এসে বারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী সাংবাদিকদের বলেন, “বিকাশ বসুর খুনের ঘটনার বিচার হওয়া দরকার। মঞ্জু বসুর দাবী তার স্বামীর প্রকৃত খুনিরা শাস্তি পাক। আমি মনে করি মঞ্জু বসুর দাবি এমন কিছু বড় নয়। আমি প্রশাসনকে বলব মানুষের মনের কথা। কেউ বিকাশ দাকে সকাল বেলায় গুলি করে খুন করে চলে যাবে, সে শাস্তি পাবে না, সেটা হতে পারে না। প্রশাসন তাদের মত করে তদন্ত করে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করবে।”

বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের ১০ বছরের বিদায়ী সাংসদকে প্রশ্ন করা হয়, বাম আমলে খুন হলেও ওই খুনের ঘটনার বিচার তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন কালে কেন হল না? এই প্রশ্নের উত্তরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “কি কেন হয়নি, এইসব বিতর্কিত প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আজকে দুঃখের দিন। তবে দোষীরা শাস্তি পাক এটা আমি চাই। আগামী দিনে প্রশাসন নিশ্চই এই ঘটনার তদন্ত করবে।” বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এসে নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন,”প্রশাসন তাদের মত করে তদন্ত করবে। এই ঘটনার বিচার হোক, সেটা আমিও চাই।”

ইছাপুর স্টোর বাজার এলাকায় যে স্থানে তৃণমূল নেতা বিকাশ বসুকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল, সেই স্থানে কয়েক বছর আগে বিকাশ বসুর আবক্ষ মূর্তি স্থাপন হয়েছিল। সেই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ও সেই স্থানে ই বিকাশ বসুর স্মরণে তার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হল।

তবে নোয়াপাড়ার এক সময়ের তৃণমূল নেতা বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানে বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী থেকে, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক, এমনকি বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস উপস্থিত থাকলেও তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন নোয়াপাড়ার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুনীল সিং এবং উত্তর বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, সুনীল সিং সম্পর্কে অর্জুন সিং-এর আত্মীয়। যে বারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী। ২০১৮ সালে নোয়াপাড়া কেন্দ্রে উপনির্বাচনে সুনিল সং-কে প্রার্থী করা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল। প্রার্থী হিসেবে মঞ্জু বসুর নাম ঘোষণা করে দেয় বিজেপি। যদিও শেষ নিজেকে তৃণমূলের সৈনিক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে দাবি করে নিজেপির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন মঞ্জু দেবী।

ফাইল ছবি

এই অনুষ্ঠানে কেন অনুপস্থিত সুনীল বাবু এই প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আমি আসিনি। কাউকে আমন্ত্রণ করার মত বিষয় এটা নয়, মন থেকে যে তাগিদ অনুভব করবে সে আসবে। হয়ত কোন কাজে ব্যস্ত আছে, পরে আসতে পারে।” তবে বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক সুনীল সিং বলেছেন, “আমি জানতাম না, বিকাশ বসুর মৃত্যু বার্ষিকীর অনুষ্ঠান আছে। শরীরটা আমার খারাপ ছিল, তবুও কেউ আমাকে জানালে নিশ্চই যেতাম।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ