প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: নোয়াপাড়ায় ফিরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিধায়ক সুনীল সিং।

বুধবার তিনি ব্যারাকপুর ওয়ারলেস মোড়ে সাংবাদিকদের বলেন, “দিদি গতকাল বলেছে এক সময় যারা দল করত, তাদের আত্মীয়দের টিকিট দিয়ে ভুল করেছেন। আমি দিদিকে বলতে চাই, ২০১৬ সালে নোয়াপাড়া আসনটা তৃণমূল কংগ্রেস হেরে গিয়েছিল। ওখানে কংগ্রেস জিতেছিল। সেই সময় ওই আসন পুনরুদ্ধারের জন্য আমাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। অন্য কেউ দাঁড়ালে নোয়াপাড়ায় জিততে পারত না।”

তাঁর দাবি, যেহেতু ওই সময় অর্জুন সিং দলের সম্পদ ছিলেন, দক্ষ সংগঠক ছিলেন তাই অর্জুন সিংয়ের রণনীতিতে ভর করে নোয়াপাড়া উপ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল। সুনীল সিং বলেন, ”অর্জুন সিং আমার আত্মীয় অনেক দিনের। এতে অসুবিধা কোথায়? সবাই জানে সে কথা।”

মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, ”যাকে ইচ্ছা প্রার্থী করুন, যেদিন ভোট হোক, আমি এই আসন থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১ লক্ষ ভোটে জয়ী হব। তৃণমূল কংগ্রেস নোয়াপাড়া জিতবে না। আগামী ৬ মাসের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস দলটাই ভেঙে যাবে। অনেক বিধায়ক লাইনে আছে। সবাই ভারতীয় জনতা পার্টিতে চলে আসবে।”

এদিন সুনীল সিং অভিষেক বন্দোপাধ্যায়কে সিন্ডিকেট নেতা বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “অভিষেককে আমি প্রশ্ন করতে চাই, উনি বলেছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী ২ লক্ষ ভোটে জয়ী হবেন, এক ভোট কম হলে তার সঙ্গে কথা বলতে। আমি এখন প্রশ্ন করছি, এই আসনে অর্জুন সিং জিতেছেন। উনি সেই প্রসঙ্গে এখন চুপ কেন? সিন্ডিকেট করে উনি তৃণমূল কংগ্রেসের এই অবস্থা করেছেন । উনি তো সিন্ডিকেট নেতা।”

বুধবার সুনীল সিংয়ের সঙ্গে কলকাতায় ফিরেছেন গারুলিয়া পুরসভার বিজেপিতে যোগদান করা ১২ জন কাউন্সিলরও। সুনীল বাবু বলেন, আগামীদিনে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার হলে কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ উদ্যোগে উন্নয়ন হবে । সবকা সাথ সবকা বিকাশ পশ্চিম বাংলায় বাস্তব রূপ নেবে । বুধবার বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যে ফেরার পর তাকে নোয়াপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি সমর্থকদের পক্ষ থেকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়।