মুম্বই: পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে৷ পাকিস্তানকে সবদিক থেকে বয়কটের দাবি তুলেছে সেলিব্রিট থেকে সাধারণ মানুষ৷ আসন্ন বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে না-খেলার দাবি জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা৷ কিন্তু সে পথে না-গিয়ে সরাসরি পাক প্রধানমন্ত্রী বন্ধু ইমরান খানের সামনে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন সুনীল গাভাস্কর৷

গত বছর অগস্টে পাক প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন বিশ্বকাপ জয়ী পাক অধিনায়ক ইমরান খান৷ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পরই ইমরান শপথ নিয়েছিলেন নয়া পাকিস্তানের৷ আতঙ্কবাদের ছায়া থেকে বেরিয়ে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়াতে চাই বলে মন্তব্য করেন কিংবদন্তি এই পাক ক্রিকেটার৷ কিন্তু মাত্র সাত মাসেই পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংঘটনের হাতে শহিদ হয়েছেন ভারতের ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান৷

আরও পড়ুন: বিশ্বের কাছে পাকিস্তানের মিথ্যে ‘ফাঁস’ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ ভারতের

গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ গাড়ির কনভয়ে বিস্ফোরক গাড়ি নিয়ে হামলা চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠি জইশ-ই মহম্মদ৷ আতঙ্কবাদী হামলায় শহিদ হন ৪০ জন ভারতীয় জওয়ান৷ সারা বিশ্ব এই ঘটনার নিন্দা করলেও জঙ্গিগোষ্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তো দুরঅস্ত, কাপুরুষোচিত এই ঘটনার নিন্দা শোনা যায়নি পাক প্রধানমন্ত্রীর মুখে৷ বরং ভারত সম্পর্কে হুশিয়ারি শোনা গিয়েছে ইমরানের মুখে৷

ইমরানের এই মন্তব্যে শকিত ভারতীয় ক্রিকেটমহল৷ বন্ধু ইমরানের মন্তব্যের পর মুখ খুললেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক গাভাস্কর৷ ইমরানের দিকে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন কিংবদন্তি ভারতীয় ওপেনার৷ ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাভাস্কর বলেন, ‘আমি তরুণ ক্রিকেটারদের মতো মন্তব্য করতে চাই না৷ কিন্তু আমি ইমরানকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলে বলতাম, এটাই কি তোমার নয়া পাকিস্তান!’

আরও পড়ুন: সবুজ রঙের স্করপিওতে ৫০০ কেজি RDX ভরে ফের হামলার ছক জঙ্গিদের

সানি আরও বলেন, ‘তুমি বলেছিল ভারত এক কদম এগোলে পাকিস্তান দু’ কদম এগোবে৷ কিন্তু আমি বলছি, পাকিস্তানের উচিত প্রথম ধাপ এগনো৷ তুমি বন্ধুত্বের দু-ধাপ এগলে ভারত অনেক ধাপ এগবে৷ আমি রাজনীতিবিদ নয়৷ তুমি আমার বন্ধু, ওয়াসিম ও শোয়েবও আমার খুব ভালো বন্ধু৷ প্রথম কদম তোমারই বাড়ানো উচিত৷ পুরনো পাকিস্তান ছেড়ে বেরিয়ে এসে দেখো, ভারত কতটা বন্ধুত্বের কদম এগোতে পারে৷’

সানি আরও বলেন, ‘তোমার প্রথম কদমটা হবে নয়া পাকিস্তানের সূচনা৷ এই হামার জন্য যারা দায়ী তাদের ভারতের হাতে তুলে দাও৷ সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ কর৷ আমি একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে বলছি, ভারতীয় জনগণ তোমার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাবে৷ আমি তোমার প্রতিশ্রুতি চাইছি না, তোমার কাজ দেখতে চাই৷’

আরও পড়ুন: ভারত হামলা চালাবে! ভয়ে অধিকৃত কাশ্মীরে বাঙ্কার বানাচ্ছে পাকিস্তান

বন্ধুত্বের সম্পর্ক সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে থাকে না৷ ক্রিকেটার হিসেবে দীর্ঘ সময় ভারতে কাটিয়েছেন ইমরান৷ সুতরাং অন্য যে কোনও পাক প্রধানমন্ত্রীর থেকে ইমরান ভারতীয় জনগণকে ভালো করে চেনেন বলে মনে করেন সানি৷

গাভাস্কর ও ইমরানের বন্ধত্ব অনেক দিনের৷ বন্ধু ইমরানের কথায় ক্রিকেট কেরিয়ারে অবসর পিছিয়ে দিয়েছিলেন গাভাস্কর৷ প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘আমি ওর কথা শুনে অবসর পিছিয়ে দিয়েছিলাম৷ আশা করি ও আমার কথা শুনবে৷’ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবসর ঘোষণা করতে চলেছিলেন সানি৷ কিন্তু ইমরান তাঁকে বলেছিলেন, ভারত-পাক সিরিজের পর যেন অবসর নেয়৷ ইমরানের কথা মতো ১৭ মার্চ, ১৯৮৭ বেঙ্গালুরুতে ভারত-পাক সিরিজের শেষ টেস্টের পর অবসর নিয়েছিলেন গাভাস্কর৷

আরও পড়ুন: শুধু ক্রিকেট নয়, সব খেলাতেই পাকিস্তানকে বয়কটের দাবি সৌরভের