অরুণাভ রাহারায়: তিনি চিরপ্রেমিক। তিনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। প্রতিভাস প্রকাশন থেকে প্রকাশিত তাঁর কথাবার্তা সংগ্রহের নাম ‘ভালবাসার জন্য আমার কাঙালপনা গেল না’। ‘নীরা’-র জন্য লেখা সুনীলের একাধিক কবিতা বহু কবিতাপ্রেমীর প্রিয়। মৃত্যুর এত বছর পরেও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। উপরন্তু কিছুদিন আগেই নন্দনে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাঁকে নিয়ে তিনদিনের উৎসব ‘সুনীল সরণী’।

সম্প্রতি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি ভিডিও ইন্টারভিউ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সুনীল বেঁচে থাকতে সোশ্যাল মিডিয়ার তেমন রমরমা ছিল না। তিনি কোনও দিন অংশ নিতে পারেননি ফেসবুক-হোয়াটস অ্যাপে। সেই সুনীলের একটি সাক্ষাৎকার ঘুরছে ফেসবুকে। অনেকেই মনে করছেন সেই সাক্ষাৎকার তরুণ লেখকদের কাছে অত্যন্ত শিক্ষণীয়। সেখানে সুনীল কম বয়সী লেখকদের প্রেমে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নিজের লেখার মুহূর্তের কথাও শেয়ার করেছেন, “আমি লেখককে কখনওই উপদেষ্টার ভূমিকায় রাখতে চাইনি। আমি লেখককে গুরু-ঠাকুরের ভূমিকায় রাখতে চাইনি। আমি লেখককে পাঠকের বন্ধুর মতো রাখতে চেয়েছি। যাতে লেখক আর পাঠক একসঙ্গে চলতে পারে।”

সহজ ভাবে লিখতেই পছন্দ করতেন সুনীল। তাঁর মতে, “সহজ করে লেখা খুব শক্ত ব্যাপার। তার জন্য অনেক সাধনা দরকার। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আছে– সহজ কথা যায় না বলা সহজে। লেখার সময় প্রতিটি লাইন আগে একবার মনে মনে বলি, তারপর লিখি। কেমন শোনাচ্ছে, সাউন্ড ঠিক আছে কিনা বা দুর্বোধ্য লাগছে কিনা। তারপর লিখি।”

এরপরেই তরুণ লেখকদের উদ্দেশ্যে প্রেমে পড়ার বার্তা দেন তিনি। সুনীলের কথায় “তরুণ লেখকদের প্রেমে পড়তে হবে। প্রেমে পড়ে ব্যর্থ হতে হবে। প্রেমে পড়ে বিয়ে-সংসার করলে লাভ নেই। প্রথম প্রেম ব্যর্থ হলে ধাক্কা লাগে, তাতে কাজ হয়।” অবশ্য এরপরেই তিনি বলেন শুধু প্রেমে পড়াই নয়, প্রচুর বই পড়াও তরুণ লেখকের কাজ। কারণ, ভাল লেখক হতে গেলে ভাল পাঠক হতে হয়। নীললোহিতের মতে, “পড়তে হবে প্রচুর। লেখক হতে গেলে পাঠক হতে হয়, প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। না-পড়লে কোনও উপায় নেই। যারা না-পড়ে ফাঁকি দিয়ে লেখক হতে চায় তারা বেশি দূর এগোতে পারে না।”