নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: ‘১৯শে হাফ- ২১শে সাফ৷’ সপ্তমদফা ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে এই মন্ত্রেই উদ্বুদ্ধ গেরুয়া শিবির৷ বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক সুনীল দেওধরের কথায়, শেষ দফার ৯টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জয় পাবেন পদ্ম প্রার্থীরা৷

ভারত জয়ে বিজেপির নজরে বাংলা৷ হিন্দি বলয়ের ঘাটতি পোষাতে মমতার বাংলাকেই টার্গেট করেছেন মোদী শাহ জুটি৷ প্রচারেও মিলেছে তার আঁচ৷ রেকর্ড করে মমতার বাংলায় প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷ কম যাননি গেরুয়া শিবিরের চাণক্য অমিত শাহ৷ তবে এতেই শেষ নয়৷ বাংলা থেকে বেশি আসন সংগ্রহে মাঠে নামানো হয়েছে ত্রিপুরা জয়ের কারিগর সুনীল দেওধরকে৷

আরও পড়ুন: ক্ষমতায় ফিরলে আরও দেশদ্রোহী আইন কঠোর কড়া হবে: হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দলের হয়ে বাংলায় কাজ করছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক সুনীল দেওধর৷ তাঁর দায়িত্বে মূলত কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্র৷ তবে বাড়তি দায়িত্ব হিসাবে থাকছে কলকাতা সংলগ্ন দমদম ও যাদবপুর কেন্দ্র দুটিও৷ এছাড়াও শেষ দফার অন্যন্য লোকসভাতেও ভোটের প্রচারে গিয়েছেন সুনীল৷

সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজেপি সম্পাদকের দাবি, ‘‘বাংলা থেকে এবার বিজেপি পাবে ২৭ থেকে ৩০টি আসন৷’’ লোকসভার সাফল্য বদলে দেবে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ৷ তাঁর সংযোজন, ‘‘২০২১-এর বিধানসভায় তৃণমূল উবে যাবে৷’’ এরজন্য অবশ্য তৃণমূল সুপ্রিমোকেই আগাম ধন্যবাদ দিয়েছেন সুনীল দেওধর৷ তাঁর কথায়, ‘‘একদিকে মমতার মুসলিম তোষণ, অন্যদিকে মোদীজীর ‘সব-কা সাথ সব-কা বিকাশ’ মানুষকে তৃণমূলের থেকে মুখ ফেরাতে বাধ্য করেছে৷’’

আরও পড়ুন: মান্নানের উলটো পথে হেঁটে মমতাকে সমর্থন সুস্মিতার

নরেন্দ্র মোদী থেকে অমিত শাহ৷ রাজ্যে প্রচারে এসে বারংবার বলছেন, বিজেপির আসন ৩০০ পার করতে সাহায্য করবে পশ্চিমবঙ্গ৷ সেই দাবিরই প্রতিফলন শোনা গেল সুনীল দেওধরের গলাতেও৷ তিনি জানান, প্রথমে মনে হয়েছিল লোকসভায় এরাজ্য থেকে বিজেপি পাবে ৪২ এর অর্ধেক ২১টি আসন৷ কিন্তু দিন যত এগিয়েছে ততই বোঝা গিয়েছে গেরুয়া দলর প্রতি মানুষের সমর্থনের বিষষটি৷ তাই ছয়-দফা ভোটের পর বলাই যায় ‘‘বিজেপির আসন বাড়ছেই৷ রাজ্যের প্রায় ষাট শতাংশ আসনই পাব আমরা৷’’ জয়ের গন্ধ পেয়েই সুনীলের নতুন স্লোগান, ‘‘১৯শে হাফ- ২১শে সাফ৷’’

রাজননৈতিক মহলের ব্যাখ্যায়, ২৭ থেকে ৩০টি লোকসভা আসন পেলে তা হবে মোদী-শাহ জুটির কাছে বড় জয়৷ ২১ পর্যন্ত সেই প্রবণতা ধরে রাখা গেলে বিজেপির ঝুলিতে যাবে ১৮৯ থেকে ২১০টি আসন৷ পশ্চিমবঙ্গের মোট বিধানসভা আসন ২৯৪৷ ম্যাজিক ফিগার ১৪৮৷ সেক্ষেত্রে ম্যাজিক ফিগারের থেকে অনেকটাই এগিয়ে শেষ করবে গেরুয়া বাহিনী৷ তবে বাস্তব বড় কঠিন৷ পাটিগণিত ও রাজনীতির অঙ্ক এক নয়৷ তাই নজরে ২৩শে মে৷