দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ‘‘জান গ্যায়ি হ্যায় জনতা, মূর্তি তোড়া হ্যায় মমতা …৷’’ কলকাতা ছাড়ার আগে বলে গেলেন সুনীল দেওধর৷ কলকাতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ’র মেগা রোড-শো চলাকালীন বিদ্যাসাগর কলেজে গণ্ডোগোলের জেরে ভাঙে বিদ্যাসাগরের মূর্তি৷ কে ভেঙেছে সেই মূর্তি তা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দোষ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে৷ অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মোদী-শাহকে দোষারোপ করেছেন৷ মৃত্যুর ১২৮ বছর পর ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হঠাৎ বাংলার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন৷

শেষ দফা নির্বাচনের আগে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার বিষয়টিই যেন সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে৷ তৃণমূলের বক্তব্য মূর্তি ভেঙে বাঙালি ভাবাবেগে আঘাত করেছে বিজেপি৷ আবার, বিজেপির বক্তব্য, অমিত শাহর রোড-শো’তে কয়েক লক্ষ জনতা কলকাতার রাস্তায় নেমেছিল৷ সেই সাফল্যকে মুছে দিতে নিচু রাজনীতি করেছে তৃণমূল৷ ঝামেলার সূচনা করেছে তৃণমূলই৷ বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে দোষ চাপাতে চেষ্টা করেছে বিজেপির উপর৷

তবে সুনীলের দাবি, মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেমসাইড গোল করেছেন৷ এই ঘটনা মমতার বিরুদ্ধে যেতে চলেছে৷ ‘‘জান গ্যায়ি হ্যায় জনতা, মূর্তি তোড়া হ্যায় মমতা …৷ বাংলার জনতা এত বোকা নয়৷ কী ঘটেছে সকলেই বোঝে৷’’ রাজ্য শেষ দফা নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই কলকাতা ছাড়তে হবে সুনীল দেওধরকে৷ বিজেপির এই জাতীয় সম্পাদক ত্রিপুরার পর্যবেক্ষক৷

ত্রিপুরায় ক্ষমতা পরিবর্তনের অন্যতম সারথী৷ অন্ধ্রপ্রদেশেরও সহ পর্যবেক্ষক সুনীল৷ পোড়খাওয়া এই নেতাকে রাজ্যের শেষ দফার ৯টি লোকসভা কেন্দ্রের সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখাশোনা করার কাজে নিয়োগ করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷ কলকাতা ছাড়ার আগে Kolkata24x7 – কে বলে গেলেন, ২৭ থেকে ৩০টি আসনে জিতবে বিজেপি৷ ‘‘অমিত ভাই শাহ হয়তো একটি টার্গেটের কথা বলেছেন আপনাদের৷ কিন্তু আমি আপনাকে বলছি … জনতার ভাবাবেগ দেখে বলছি, ৪২টি আসনে ২৭ থেকে ৩০টি আসনে জিতবে বিজেপি৷’’ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সুনীল বলছেন, ‘‘শেষ দফায় ৯টি আসনের মধ্যে ৬টিতে বিজেপি জিতবেই৷’’