নয়াদিল্লি: কমিশনের অন্দরের সংঘাত প্রকাশ্যে৷ ভোটের আবহে যা নিয়ে টানাপোড়েন৷ ঠেকায় পড়ে তাই শেষ দফা ভোটের আগে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা৷ জানালেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য একে অপরের ক্লোন নয়। এই মতপার্থক্য স্বাভাবিক৷’

নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিনচিট দিয়েছে কমিশন৷ যাভাবে তা দেওয়া হল তা সঠিক পক্রিয়া মেনে হয়নি৷ ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন কমিশনার অশোক লাভাসা৷ তবে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিশনে সেই ক্ষোভ গুরুত্ব পায়নি৷ তাই কমিশনার অশোক লাভাসা অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে যোগ দিতে।

আরও পড়ুন: শেষ দফার নির্বাচনে লাখ লাখ বোরখার অর্ডার কেন, প্রশ্ন বিজেপির

বিষয়টি সামনে আসতেই অস্বস্তি পড়ে কমিশন৷ শনিবার, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা লাভাসা বিতর্কে নিয়ে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য একে অপরের ক্লোন নয়। তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য স্বাভাবিক। এর আগেও তা এমনটা হয়েছে। তবে সেই মতপার্থক্যের তথ্য হয় কমিশনের অফিসের ভিতরেই রয়ে গিয়েছে অথবা অবসরের পর কোনও কমিশনারের বইয়ে তার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রকাশ্যে আলোচনার পক্ষে৷ তবে সব কিছুরই নির্দিষ্ট সময় থাকে।’’

আদর্শ আচরণবিধি চালুর পর থেকে শাসক থেকে বিরোধী, হেভিভিওয়েট থেকে সাধারণ নেতা, কর্মী সবার বিরুদ্ধেই কমিশনে রিপোর্ট জামা পড়েছে৷ কমিশনও নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই কমিশন বিজেপির ওই দুই নেতাকে ছাড়পত্র দেয়৷ কমিশনার অশোক লাভাসার অভিযোগ, অন্তত ৬টি অভিযোগের ক্ষেত্রে দোষী ছিলেন মোদী৷ কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁর আপত্তি ধোপে টেকেনি৷

আরও পড়ুন: ভোল বদল বিজেডির, রাজ্যকে ‘বিশেষ মর্যাদা’ দিলেই মিলবে সমর্থন

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দাবি, বিতর্ক হচ্ছে এটা ঠিক৷ তবে তা আটকানো যেত৷ কোথায় কখন মতামত প্রকাশ করতে হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ৷ সুনীল অরোরার নিশানায় অশোক লাভাসা৷ তবে অস্বতি যে রয়েছে তার ইঙ্গিত মিলেছে অরোরার কথাতেই৷

এর আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ ছিল,কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট৷ কেন্দ্রীয় শাসক দলের হয়ে কাজ করছে৷ প্রধানমন্ত্রী ও অমিথ শাহের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও সঠিকভাবে খতিয়ে না দেখে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের৷ সেই অভিযোগকেই মান্যতা দেয় লাভাসার অসন্তোষ৷ একই সঙ্গে সিবিআই, আরবিআইয়ের পর উঠে এল স্বশাসিত সংস্থাগুলির অন্দরোর কোন্দল৷