সুমন ভট্টাচার্য: ‘বিবি’র বিদায়। এই ‘বিবি’ যে সে বিবি নন, ইসরায়েলের গত ১২ বছর ধরে দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (benjamin netanyahu)। আগামী রবিবার ইসরায়েলের পার্লামেন্টে নতুন সরকারের শক্তিপরীক্ষা। এবং সব কিছু ঠিকঠাক চললে, নেতানিয়াহু ওরফে ‘বিবি’র বিদায় ঘটবে বলেই মনে করছেন সে দেশের বিরোধীরা সহ সব প্রধান সংবাদপত্রই।

এই বিদায় যে শুধু ইসরায়েলের রাজনীতিতে একটা সন্ধিক্ষণ তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি থেকে সরে গেলে, ‘বিবি’র জেল যাত্রা অনিবার্য (benjamin netanyahu)। কারণ জেরুজালেমের (Jerusalem) আদালত ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুকে দোষী সাব্যস্ত করে রেখেছে।

এতদিন ধরে যে দেশ তিনি শাসন করেছেন, বলা ভালো সবাইকে পদানত করে রেখেছেন, সেখানে যে হাওয়া উল্টোদিকে ঘুরছে তা অবশ্য ভালোই বোঝা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহুর পার্টি লিকুদ পার্টির (likud party) অন্য বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আদালত কারাবাসের শাস্তি শুনিয়েছে। অন্যদিকে দেশের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী গ্র্যান্ত পরিস্কারই জানিয়ে দিয়েছেন, গাজা ভূখন্ড নিয়ে কোনওকিছু বলা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মাননীয় বিবির নেই।

বিরোধীরা যখন জোট বেধে সরকার গড়ার দাবী জানিয়েছিল সেই সময় থেকেই অবশ্য টের পাওয়া যাচ্ছিল ইসরায়েলে এবার পালাবদলের হাওয়া জোরদার। গত দশ দিন ধরে বিরোধীদের জোট ভাঙার বা তার প্রতিপক্ষ পার্লামেন্ট সদস্যদের ভয় দেখানোর কম চেষ্টা করেননি নেতানিয়াহু (likud party)। কিন্তু অনেক দিন থেকেই ইসরায়েল রাষ্ট্র হিসাবে যেহেতু আমেরিকার মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেয়, তাই সেদেশের নিরাপত্তা সংস্থা শিনবেট বিরোধী জোটের নেতা এবং সাম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বেনেটকে রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা এবং নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।

দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা শিনবেটের এই সিদ্ধান্তই বলে দিয়েছিল ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠানগুলি মনে করছে নেতানিয়াহুর আসন টলে গিয়েছে। এর পরেও অবশ্য বিবির সুযোগ্য পুত্র বিরোধী দলের নেতাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য ডাক দিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন। এমনকি ফেসবুক তাঁকে নিষিদ্ধও করে দেয়।

নেতানিয়াহু সহজে জমি ছাড়বেন না বুঝে বিরোধীরাও ধীরে ধীরে নিজেদের ঘুটি সাজাতে শুরু করে। প্রথমে প্রেসিডেন্ট পদে তারা নতুন লোককে বসান। তার পরে পার্লামেন্টের স্পিকারও যেহেতু বিবির ঘনিষ্ট ছিলেন, সেহেতু তাঁকেও সরাতে নোটিশ দেওয়া হয়।

উদ্দেশ্য একটাই ছিল কোনওমতেই যেন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণে নেতানিয়াহু কোনও বাধা তৈরি করতে না পারেন। এখনও পর্যন্ত ইসরায়েলের রাজনীতিতে আপাত দৃষ্টিতে যা অসম্ভব বলে মনে করা হতো, বিরোধীরা সেটাই করতে এগিয়ে চলেছেন। ইসরায়েলি পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা ১২০।

বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী তাদের দিকে রয়েছেন ৬২ জন পার্লামেন্ট সদস্য, বাকিরা নেতানিয়াহুর দিকে। অর্থাৎ একটু এপাশ ওপাশ হলেই যেকোনও সময় পাশার দান উল্টে যেতে পারে। বিরোধীরা আশা করছেন একবার ‘বিবি’ কুর্সিচ্যুত হলে যেহেতু তাঁর জেলযাত্রা অনিবার্য, সেহেতু আর কোনও নাটকীয় পালাবদল নাও ঘটতে পারে।

গোটা বিশ্ব অধীর আগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে ইসরায়েলের এই পালা বদলের দিকে। কারণ, নেতানিয়াহু তো শুধু নেতানিয়াহু নন, আসলেই দক্ষিণপন্থী রাজনীতির একটি চরমতম উদাহরণ। বিরোধীদের কিভাবে দমনপীড়ন করতে হয়, সরকার এবং প্রশাসনকে কিভাবে নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে হয়, নেতানিয়াহু তার সব চেয়ে বড় উদাহরণ।

ইসরায়েলে এই নতুন সরকার গঠিত হলে তা এক অসাধারণ উদাহরণ হয়ে থাকবে। কারণ, এই সরকারে যেমন অতি দক্ষিনপন্থীরা আছেন, তেমনই আরব মুসলিমরাও আছেন। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে যা কখনও হয়নি, সেটাই এই নতুন জোটে দেখা যাচ্ছে।

অতি দক্ষিণপন্থীদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে নেবেন ইসরায়েলে বসবাসকারী আরব মুসলিমরা। ইসরায়েলের সমাজ এবং রাজনীতিকে এই নতুন সরকার বা এই জোট যে গভীরতর প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা ইতিমধ্যেই ‘জেরুজালেম পোষ্ট’ বা ‘টাইমস অব ইসরাইল’-র মতো সেদেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলি লিখছে।

সেদেশের বুদ্ধিজীবীরা মনে করছেন, আটটি দলের এই জোট দেশকে শুধু এক নতুন দিশা দেখাবে তাই নয়, মধ্যপন্থার রাস্তা ধরে ইসরাইলকে শান্তি এবং সমৃদ্ধিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে। অনেকেরই হয়তো ধারনা নেই নেতানিয়াহুর আমলে ইসরায়েলে অর্থনৈতিক সমতা একেবারেই নেই।

যেহেতু জীবনযাত্রার খরচ অনেক বেশি, সেহেতু ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০শতাংশ সেই অনুযায়ী রোজগার করতে পারে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমীক্ষায় ইসরায়েলে এই ধনের অসাম্যের দিকে আঙুল তুলেছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.