সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এক ঘেয়ে কাজ করতে করতে হাঁফিয়ে উঠেছেন? বেশি নয় দিন দুয়েক হাতে রাখলেই হবে। ঘুরে আসতে পারেন বাঘ কুমিরের দেশে। এখানে গেলে বাঘের দেখা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। সঙ্গে থাকবে কুমীরও। আর হরিণ এখানে শয়ে শয়ে ঘুরে বেড়ায়। সুন্দরবনের ”G-PLOT’?। কথায় বলে, যেখানে বাঘের ভয় সেখানে সন্ধ্যে হয়।

আর এই জি-প্লটে সচরাচর কেউ যেতে চায় না। কারণ এখানে সত্যিই বাঘ আর কুমিরের ভয় দিন কাটে স্থানীয়দের। তবু একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে যদি দিন দুয়েকের রোমাঞ্চে ভরা সময় কাটাতে চান তাহলে সুন্দরবনের এই অঞ্চল সবথেকে সেরা বলে দাবি অফবিট ট্রাভেলারদের।

এটি আসলে একটি দ্বীপ। সুন্দরী,গড়াণ,গেঁওয়া,শিশুর দেশ। গ্রামের তিনদিকে নদী(পশ্চিম,পূর্ব,দক্ষিণ) ও একদিক বঙ্গপোসাগরে আবৃত দ্বীপ এই ‘G-PLOT। বাংলার প্রায় শেষ ভূ-খন্ডের এই দ্বীপ সেভাবে এখনও পর্যটকের গোচরে আসেনি।কিন্তু পর্যটনের জন্য সমস্ত প্রাকৃতিক জিনিসই এখানে মজুদ। পাথরপ্রতিমা থেকে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের জলপথে পৌঁছাতে হয় জি-প্লটের প্রবেশদ্বার ‘বুড়াবুড়ির তট’-এ।

এঁকেবেঁকে যাওয়া জলপথে এই বোট ভ্রমণ অসম্ভব রকমের সুন্দর ও রোমাঞ্চকর। দু’পাশের জঙ্গলের নিস্তব্ধতা যে কোনও প্রকৃতি প্রেমিকের মনকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। এই নদীপথের দু-কূলে কুমিরেরা অলস ভরা সময় নিয়ে রোদ পোহায়।আবার আপনার ভাগ্য সহায় থাকলে দেখতে পাবেন বাঘ হরিণের জলপান। দ্বীপের যে সমস্ত অঞ্চলে লোকবসতি রয়েছে সেখানে মিলবে স্থানীয় মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রমাণ। মধু,মাছ সংগ্রহ বা কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের কবলে চলে যাওয়ার কিংবা বাঘের সঙ্গে লড়াই এখানকার মানুষের প্রায় নিত্যদিনের অভ্যাস।

সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়লে রোমাঞ্চ আরও বাড়বে বই কমবে না। কারণ দ্বীপের ঘরে ঘরে যে আলো জ্বলে তা যেন কৃষ্ণগহবরের মধ্যে মোমবাতিসম। গ্রামের ভয়ের আরও এক নাম সমুদ্রের ঝড়। কান পাতলেই যা অহরহ শোনা যায়। একসাথে নদী-সাগর-জঙ্গল বাংলার এমন স্থানের ঠিকানা বিশেষ নেই। সেই ঠিকানাই জি-প্লট। বেড়িয়ে আসতে পারেন ওই স্থানের গোবরধনপুর। বীচবহুল আয়লা বাঁধ-তটের বাজার-সীতারামপুর বীচও বেশ উপভোগ্য। আধুনিকতা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে থাকা এই মানুষগুলির আন্তরিকতা,সৌজন্যতা আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করে যাবে।আপনি যদি চান তাহলে নৌকা ভাড়া করে বেড়িয়ে পড়তে পারেন জঙ্গল সাফারিতে।

তবে এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।যেহেতু জি-প্লটের বিপরীত প্রান্তের দুটি জঙ্গলেই বাঘের দেখা মেলে।খুব সস্তায় বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ কিনে এনে তা হোটেল থেকে ভেজে খেতেও পারেন। এছাড়া ফেরার পথে দেখে আসা যেতে পারে ‘ভাগবতপুর কুমির প্রকল্প’। অপরূপ সৌন্দর্য-বৈচিত্র‍্যতা-স্থানীয় মানুষের কঠোর জীবনসংগ্রামকে চাক্ষুষ দেখতে হলে চলে আসুন আয়লায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনের ‘জি-প্লট’ নামক দ্বীপ।

(সন্ধান – পৃথ্বীশ কুন্তী)

★পথনির্দেশ:—- শিয়ালদহ>ট্রেনে কাকদ্বীপ(৩ ঘন্টা)>বাসে পাথরপ্রতিমা(৪৫ মি.)>টোটোয় পাথরপ্রতিমা জেটিঘাট(১০ মি)>লঞ্চে বুড়াবুড়ির তট(২.৩০ ঘ.)।

*★থাকার জায়গাঃ——–* ১)আপ্যায়ন গেস্ট হাউস(ইন্দ্রপুর বাজার,যোগাযোগ:-09647051857)
২) বিনা ব্যয়ে থাকতে পারেন রামকৃষ্ণ আশ্রমে,আহারাদিও বিনামূল্যে(যোগাযোগ:-09733679052)