নামখানা: আবারও সুন্দরবনের জঙ্গলে বাঘের হানায় নিহত মৎস্যজীবী। জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের শিকার হলেন এক মৎস্যজীবী। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের বসিরহাট রেঞ্জের কাঁকসার জঙ্গলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘের হানায় নিহত ওই মৎস্যজীবীর নাম রামপদ মণ্ডল। মঙ্গলবার ৩ জন মৎস্যজীবীর একটি দল কাঁকসার জঙ্গলে যায় কাঁকড়া ধরতে। সঙ্গীদের সঙ্গে খাঁড়ি লাগোয়া জঙ্গলে নেমে কাঁকড়া ধরছিলেন রামপদ মণ্ডল নামে ওই মৎস্যজীবী। আচমকা জঙ্গল থএকে বেরিয়ে তাঁর উপর লাফিয়ে পড়ে একটি বাঘ। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারে অতর্কিতে আক্রমণে গুরুতর জখম হন ওই ব্যক্তি। সঙ্গীদের তৎপরতায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় রামপদ মণ্ডলকে। কোনওমতে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন বাকি দুই মৎস্যজীবী। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে নৌকোতেই মৃত্যু হয় ওই মৎস্যজীবীর।

এদিকে, বাঘের হানায় মৎস্যজীবীর নিহত হওয়ার খবর পেয়ে এলাকায় যান বন দফতরের কর্মীরা। নিহত ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গীদের জঙ্গলে ঢুকে কাঁকড়া ধরার অনমুতি ছিল কিনা খতিয়ে দেখছেন বন দফতরের আধিকারিকরা। নামখানা, কাকদ্বীপ-সহ একাধিক এলাকা থেকে বহু মৎস্যজীবী অনুমতি না নিয়েই এখনও সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে কাঁকড়া, মাছের মীন ধরতে যান। অন্য মৎস্যজীবীরাও বন দফতরের থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনের জঙ্গলে ঢোকেন। অনুমতি নিয়ে যাঁরা জঙ্গলে যান বন দফতরের তরফে তাঁদের একাধিক ক্ষেত্রে আগাম সতর্ক করে দেওয়া হয়। কোন এলাকায় ঢোকা যাবে আর কোথায় যাবে না, তা নিয়ে বিস্তারিত ভাবে বলে দেওয়া থাকে মৎস্যজীবীদের। কিন্তু যাঁরা অনুমতি ছাড়াই জঙ্গলে যান, তাঁদের ক্ষেত্রে নিহত হওয়ার পর মেলে না সরকারি ক্ষতিপূরণ। তাই এবার বাঘের আক্রমণে নিহত রামপদ মণ্ডলেরও জঙ্গলে ঢুকে কাঁকড়া ধরার অনুমতি ছিল কিনা খতিয়ে দেখছে বনদফতর।