কলকাতা:  ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বিরল সূর্যগ্রহণ। উত্তর ভারত থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে সেই দৃশ্য। আকাশে মেঘ কাটলে বেশ কিছুক্ষণ সেই দৃশ্য দেখা যেতে পারে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণে সকালেই নামে সন্ধ্যা। সূর্যের আলো কমে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তারাও দেখা যায়। তবে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ৷ প্রকৃতির এই দুই ঘটনাকে ঘিরেও নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে৷ কথিত আছে, এই সময় কোনও খাওয়ার মুখে তুলতে নেই৷ কিন্তু কেন?

২০১৬-তে শেষবার সূর্যগ্রহণ দেখা সম্ভব হয়েছিল ভারত থেকে। ভারতে না হলেও ওই সময় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথটা গিয়েছিল কাছাকাছি এলাকার উপর দিয়ে।

তবে এই গ্রহণকে ঘিরে রয়েছে নানান সংস্কার। এমনকি রয়েছে নানান ধরণের কুসংস্কার। অনেকেই গ্রহণকে অপবিত্র বলে মনে করেন। তাঁদের মতে চন্দ্রগ্রহণ কিংবা সূর্যগ্রহণ নাকি অপবিত্রতা। এই সময়ে অশুভ শক্তির প্রভাব বেড়ে যায় বলে মনে করেন।

আর তাতে নাকি বাড়ি, মন্দির সর্বত্রই এর প্রভাব পড়ে। ফলে গ্রহণের সময় পূজা-অর্চনাও বন্ধ রাখা হয়। গ্রহণ শেষ হলে ঘরবাড়ি পরিষ্কারও করেন অনেকে। এছাড়াও অনেকে গ্রহণ চলাকালীন বাড়ির রান্না ফেলে দেন। গ্রহণ শেষ হওয়ার পরে শুরু করেন রান্নাবান্ন।

শুধু তাই নয় অনেকে বলেন, গ্রহণ চলাকালীন প্রচুর বিকিরন পৃথিবীতে চলে আসে। যা নাকি মানব দেহের জন্যে খারাপ। তাই গ্রহনের সময় সূর্যের দিকে নাকি সরাসরি তাকানো উচিত নয়। একটি এক্সরের চেয়ে অনেক বেশী বিকিরন ঘটে সূর্যগ্রহনে।

এখানেই শেষ নয়, গর্ভবতী মহিলাদের জন্যেও নাকি ক্ষতির কারন আছে সূর্যগ্রহণ। কুসংস্কার বলছে, গর্ভবতী মহিলাদের উপর নাকি সবথেকে বেশি পড়ে গ্রহনের এফেক্ট। যদিও অনেকে বিষয়টিকে উড়িয়ে দেয়। যে বা যাহারা এমন ভাবে, সেটা তাদের অজ্ঞতা।

শুধু তাই নয়, গ্রহণের সময় একাংশের মানুষের মধ্যে আরও বেশ কিছু কুসংস্কার রয়েছে। পাশ্চাত্যে অনেকে বিশ্বাস করেন, সূর্যগ্রহণের সময় বিশেষ ভঙ্গিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে যে সন্তানের জন্ম হবে, সে বিবর্তনের পরবর্তী পর্যায়ের মানুষ হবে। সেই কারণেই এই সময় অর্থাৎ গ্রহণ চলাকালীন শারীরিক সম্পর্ক করতে চান।

যদিও এই সমস্ত কিছুই কুসংস্কার। দীর্ঘ দিন ধরে পরম্পরায় চলে আসছে। বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করছেন, এমন অনেকে বলছেন আদৌতে নাকি এই সমস্ত কথা শুধুই প্রচলিত। বাস্তবের সঙ্গে কোনও মিলই নেই।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা