সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: স্বস্তির কথা বলা যেতেই পারে। দীর্ঘ শীত সঙ্গে বসন্তের সকালে ঠান্ডাভাব। কেমন হবে আসন্ন গ্রীষ্ম। চরম গরমে পুড়তে হবে না তো পশ্চিমবঙ্গকে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আপাত স্বস্তির বার্তা কলকাতাসহ সারা রাজ্যে এবারে মারাত্মক গরমের সম্ভাবনা কম। গত বছরের মতোই সুখেই কাটতে পারে বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মিলিয়ে গ্রীষ্মকাল।

গত মরসুমে মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে তাপের দহন সইতে হয়নি বাংলাকে। জ্যৈষ্ঠের শেষের দিকে ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছিল কলকাতার তাপমাত্রা। কিন্তু গত গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রির মধ্যে। বারবার কালবৈশাখী , বৃষ্টি এসে তাপমাত্রাকে মাত্রা ছাড়া হতে দেয়নি। গত বছর সবমিলিয়ে কলকাতায় ৩৯টি কালবৈশাখী হয়েছিল। যা রেকর্ড ব্রেকিং ছিল।

এবারে সেই পূর্বাভাস এখনও না মিললেও গ্রীষ্মে যে তুলনামূলক করম গরম অনুভূত হতে পারে সে কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আবহবিজ্ঞানীরা। গত বছর মার্চ মাসেই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৩৭-এ। কিন্তু এই বছর এখনও ত্রিশও ঠিক ভাবে পেরোয়নি। দুই একবার গেলেও আবারও ঝড় বৃষ্টিতে পারদ নেমেছে। এখন যে সকালের ঠাণ্ডা ভাব রয়েছে তা এখন চলবে। পরে তাপমাত্রা বাড়বে। তবে অসহনীয় হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সহ অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “লং টার্ম পূর্বাভাসে আমরা যা দেখছি সেই অনুযায়ী গ্রীষ্মে নাগাড়ে গরমের সম্ভাবনা কম। মাঝে হয়তো দুই এক দিন খুব গরম পড়ল বা লু বইল সেটা প্রকৃতির সাধারণ নিয়মে হতেই পারে। কিন্তু এছাড়া এখনও পর্যন্ত আমাদের পূর্বাভাস বলছে প্রচণ্ড গরম হবে না।”

অধিকর্তা গনেশকুমার দাস বলেন, “কলকাতার জন্য হিট ওয়েভের মাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আমরা ধরে থাকি। উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য সেটা ৩৭ ডিগ্রি। সেই অনুযায়ী কলকাতায় এই বছরে আবারও প্রচুর গরম পড়বার সম্ভাবনা কম।” একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “সময়ের সঙ্গে আপডেট দেবে আলিপুর।”

এবার যদি এল নিনোর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তাহলে দেখা যাচ্ছে, সমগ্র দেশের নিরিখে খবর ভালো নয়। মূলত অনেকগুলি পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে গরম পড়া। স্থানীয় কারণ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগরের জলতলের তাপমাত্রার বিষয়টিও। চলতি শতকে বেশ কয়েকবার ‘এল নিনো’র প্রভাবে নাস্তানাবুদ হয়েছে ভারত। গ্রীষ্মে বেশি গরম পড়েছে। বৃষ্টি কম হয়েছে বর্ষায়। দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালের প্রথম দু’বছরই ‘এল নিনো’র দাপটে খরার মুখে পড়েছে ভারত। আবারও উঁকি দিচ্ছে ‘এল নিনো’।

স্প্যানিশ শব্দটির অর্থ, ‘ছোট ছেলে’। ভূগোল মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের জলতলের তাপমাত্রা ০.৫ ডিগ্রির উপরে উঠে গেলেই সেই পরিস্থিতিকে ‘এল নিনো’ তকমা দেওয়া হয়। গত কয়েক মাসে জলতলের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। যাকে আপাতত দুর্বল ‘এল নিনো’ ঠাওড়াচ্ছেন বিশ্বের তাবড় আবহবিদরা। সময় এগোলে তা কেমন রূপ ধারন করে সেটা দেখার বিষয়।

কারণ ‘এল নিনো’ আপাতত দুর্বল হলেও পরে চাগার দিতে পারে তাপপ্রবাহ। দেশের ‘কোর হিটওয়েভ জোনে’ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহের আশঙ্কা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে গোটা গ্রীষ্মে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের আশপাশেই থাকার সম্ভাবনার কথাই জানিয়েছে হাওয়া অফিস।