কলকাতা : গত বছর করোনার জেরে লকডাউনের জন্য পাখিদের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছিল। সামনেই বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস আবার অপরদিকে ফের লকডাউনের ভ্রুকুটি। এমন সময়েই বাংলা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসতে শুরু করেছে পরিযায়ী পাখির দল।

গরম পড়তেই ফের ভারতের পথে পরিযায়ী পাখির দল। ওডিশা, গুজরাত, আসাম, উত্তরপ্রদেশ , পশ্চিমবঙ্গের জলাভূমিতে এরা ছড়িয়ে পড়ে। বাংলার দক্ষিণবঙ্গের শান্তিনিকেতনের বল্লভপুর অভয়ারণ্য, বক্রেশ্বর ব্যারেজ, বহরমপুরের আহিরন, সিউড়ির কাছে তিলপাড়া ব্যারেজ, সুন্দরবনে শীত ও গরমের শুরুতে আসে পাখির দল। উত্তরবঙ্গের তিস্তা ব্যারেজেও অনেক পাখি আসে। তবে সব থেকে বেশি পরিযায়ীর দেখা মেলে ফরাক্কা ব্যারেজে।

দেশে ফি-বছর প্রায় ১০০টি’র বেশি প্রজাতির পাখি আসে।  গরম কালে কলকাতার আশেপাশে দেখা যায় প্যারাডাইস, ফ্লাই ক্যাচার। সাদা-কালো মাথার লম্বা লেজের এই পাখিটিকে অনেকেই হয়তো চেনে। একে আমরা বলি দুধরাজ বা সা-বুলবুল। গরম কালে এরা গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়। রয়েছে আবাবিল বা সোয়ালো পাখি। এরা জলাভূমির ওপর ঘুরে ঘুরে মাছ ধরে আর জলার ধারের ঘাস বা হোগলার ঝোপে রাত কাটায়। জলাভূমির ধারে ঘাস কমে এসেছে। তাই এদেরও কম দেখা যায়। ছোঁয়া চিলও এখন কম আসে। পরিযায়ীদের মধ্যে রয়েছে পালা’স ফিশ ঈগলও। রয়েছে ফ্লেমিংগো, চাতক, ছাতারে, কোরালের মতো পাখিও।

পাখির সাম্রাজ্যে এমন বেশ কয়েকটি শ্রেণির পাখি আছে, যারা বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অন্য জায়গায় পাড়ি দেয়। এদের পরিযায়ী পাখি বলে। এই পাখিদের আবাস নিরাপদ রাখতে ও বিচরণ স্বাভাবিক রাখতে প্রত্যেক বছরের ১১ মে দিনটি বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস হিসেবে পালন করা হয়। কেন এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হল? ১১ মে-র কাছাকাছি সময়ে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা থেকে পাখিরা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দিকে উড়ে যায়। তাই এই দিনটিকে ‘বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

পরিযায়ী পাখি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এই উদ্যোগ। ২০০৬ থেকে দিনটি পালন করা হচ্ছে। কালই ছিল ১১ মে। প্রতি বছর পরিযায়ী প্রজাতির পাখিরা একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে, একটি জায়গা থেকে অন্য একটি জায়গায় উড়ে যায়। ঋতু পরিবর্তনের পরে আবার আগের জায়গায় ফিরেও আসে।

সাধারণ ভাবে লক্ষ করা গিয়েছে, খাদ্যের সন্ধানে এবং শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে শীতল অঞ্চলের পাখিরা আপেক্ষাকৃত উষ্ণ দেশগুলিতে চলে যায়। উষ্ণ দেশগুলিতে এই সময়ে ফল, পোকামাকড়ের প্রাচুর্য থাকায় সহজে খাদ্য মিলে যায়। সাধারণত পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে স্বল্প, মধ্যবর্তী ও দীর্ঘ— তিন ধরনের পরিযান লক্ষ করা যায়। স্বল্প দৈর্ঘ্যের পরিযানের ক্ষেত্রে সাধারণত খাদ্যের অভাবে পাখিরা দলে দলে আশেপাশে চলে যায়। তবে নিয়মিত ভাবে এমনটা ঘটে না। সাধারণত চাতক, পাপিয়া, খয়েরি ডানা পাপিয়া প্রজাতির পাখির মধ্যে এই ধরনের পরিযান দেখা যায়। যে সব পাখি হাজার হাজার মাইল অতিক্রম করে একটি জায়গা থেকে অন্য কোথাও যায় তাদের দীর্ঘ পরিযায়ী পাখি বলে। আর যে সব পাখিরা এই দুই দূরত্বের মাঝামাঝি দূরত্ব যাতায়াত করে তাদের মধ্য পরিযায়ী পাখি বলে। নীল শির, লাল শির হাঁস, লেজ্জা হাঁস, ক্ষুদে গাঙচিল প্রভৃতি পাখিকে দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের পরিযায়ী পাখি বলা হয়ে থাকে। এরা পাড়ি দেয় ঝাঁকে ঝাঁকে। বিজ্ঞানীদের মতে, উপকূল রেখা, পাহাড় শ্রেণি, নদী ও সূর্যের অবস্থান, প্রভৃতি এদের পথ দেখানোর কাজ করে। আবার বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রও এদের পথ চিনতে সাহায্য করে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.