স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: কে বলে তোমার বয়স হয়ে গিয়েছে ষাটের উপরে। সেই যে কবে বাবার হাত ধরে কৃষিকাজে নামা। সালটা মনে না থাকলেও এটা মনে স্পষ্ট আছে যে, বাবার হাত ধরে কোদাল, খুরপি নিয়ে মাঠে এসে গাছের পরিচর্যা করার কথা। দেখতে দেখতে দিন চলে গিয়েছে তবুও এই ষাটোর্ধ সুকুমার ভক্তা আজো সেই কোদাল, খুরপি আর স্প্রে মেশিন নিয়ে কাজ করে চলেছেন কৃষিকে প্রধান জীবিকা করেই। এবছর তিনি পেলেন ‘কৃষকরত্ন’ পুরস্কার৷

বর্তমানে সুকুমার বাবুর পুত্রও তারই হাত ধরে বংশপরম্পরা কৃষিকে ভালোবেসে কাজ করে চলেছেন। মহিষাদল ব্লকের কিসমৎ নাইকুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাগদা গ্রামের এই কৃষক বন্ধু এলাকার এক প্রগতিশীল কৃষকও বটে। তার কৃষির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন চাষ পদ্ধতির মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে তিনি তা প্রয়োগ করে থাকেন৷ পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদেরও পরামর্শ দিয়ে থাকেন সুকুমার বাবু।

প্রতিনিয়ত মহিষাদল ব্লকের কৃষি দফতরের সঙ্গে যোগাযোগও রাখেন। কোন সমস্যা ঘটলে ফসলে তা তিনি কৃষি দফতরের পরামর্শ নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেন। বর্তমানে সুকুমার বাবুর মোট ছয় বিঘা জমি রয়েছে। এরমধ্যে দুই বিঘা জমিতে আমন ও বোরো ধানের চাষ করে থাকেন।

এছাড়া দুই বিঘা জমিতে সারাবছর বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকেন। যেমন ঢ্যাঁড়শ, শসা, বেগুন, লঙ্কা। এছাড়া এক বিঘা জমিতে শাঁকআলু চাষ করে থাকেন। এই শাঁকআলু চাষই তার কাছে বাড়তি অর্থ উপার্জনের প্রধান মাধ্যমও বলা যেতে পারে।

বাড়িতে শাঁকআলু স্টোর করে নির্দিষ্ট সময়ে কলকাতায় বাজারজাত করেন এই কৃষক। এছাড়া বাকি এক বিঘা জমিতে চারটি পুকুর রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রকম মাছ চাষ করে থাকেন। এই মাছ বাজারজাত যেমন করেন পাশাপাশি বাড়িতেও সারাবছর এই মাছ তিনি পরিবারের আহারের জন্য ব্যবহার করেন। এছাড়াও বাড়িতে তিনটি জার্সি গরুও রয়েছে। গরুর দুধ স্থানীয় এলাকায় বিক্রি করে থাকেন। সবমিলিয়ে সুকুমার বাবু চাষের উপর নির্ভরশীল।

এই চাষের ওপর নির্ভর করেই ছেলেদের পড়াশোনা, আর্থিক স্বচ্ছন্দতা আজও বজায় রেখে চলেছেন এই ষাটোর্ধ কৃষক। বিগত কয়েক বছর রাজ্য সরকার প্রতি ব্লকের কৃতি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ‘কৃষকরত্ন’ পুরস্কার দিয়ে আসছেন। ১৪ মার্চ এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু এই বছর লোকসভা নির্বাচন থাকায় তা তুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ১৮ জুন মঙ্গলবার মহিষাদল ব্লকের পক্ষ থেকে বাগদা গ্রামের এই প্রবীণ কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হয় কৃষকরত্ন পুরস্কার।

এদিন ব্লক কৃষি ভবনের সভাগৃহে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুকুমার বাবুকে সম্মানিত করা হয়। কৃষকরত্ন পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লকের জয়েন্ট বিডিও শম্ভুনাথ দাস, উপকৃষি অধিকর্তা আশিস কুমার বেরা, মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিউলি দাস, সহ সভাপতি তিলক চক্রবর্তী, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ আমেদ আলি সহ অন্যান্যরা।

মহিষাদল ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা কাজল কৃষ্ণ বর্মণ জানান, এমন অভিজ্ঞ কৃষকের হাতে ন্যায্য পুরস্কার তুলে দিতে পেরে খুশি ব্লক ও জেলা কৃষি দফতর। তার হাতে স্মারক, ফুল মিষ্টি সহ ১০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়৷