স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সব্যসাচী দত্ত৷ তাঁর পরিবর্তে কে? নানা জল্পনা তৃণমূলের অন্দরেই৷ তাপস চট্টোপাধ্যায় থেকে কৃষ্ণা চক্রবর্তী৷ উঠে আসছে বহু নাম৷ সূত্রের খবর, বিধাননগর পৌরনিগমের পরবর্তী মেয়র হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন মন্ত্রী সুজিত বসু৷ দলীয় কাউন্সিলরদের কোন্দল ধাপাচাপা দিতেই মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি মেয়র পদেরও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে তাঁকে৷

হাইকোর্টের রায়ে বিধাননগর পৌরনিগমের অনাস্থা ভোটে প্রাথমিকভাবে স্থগিতাদেশ পড়েছে৷ দলের বিড়ম্বনায় অবশ্য নৈতিক জয় দেখেছেন তৃণমূল শিবিরের ‘গদ্দার’ বলে পরিচিত মুকুল রায়ের ঘনিষ্ট সব্যসাচী দত্ত৷ বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে পদত্যাগ করেন তিনি৷ তারপরই মেয়র পদের দৌড় ঘিরে জোড়াফুলের অন্দরে নানা গুঞ্জন৷

মেয়র কাকে করা যায়? এক্ষেত্রে শাসক শিবিরের কৌশল ‘সাপ মরলেও যেন লাঠি না ভাঙে’৷ অর্থাৎ প্রশাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং দলের সব কাউন্সিলরদের কাছেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে৷ আপাতত এই খোঁজেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা৷ এতে সব্যসাচী বসুকেও চাপে রাখা যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা৷ বিদ্রোহ করলেও কাউন্সিলর, বিধায়ক বা তৃণমূল ছাডা়র কথা জানাননি সব্যসাচী দত্ত৷ এদিকে, তাঁর সঙ্গে সুজিত বসুর বিরোধ সর্বজনবিধিত৷

এযাবৎ কালে মন্ত্রী ও বিধাননগরের বিধায়ককে ‘পচা আলু’ বলতেও ছাড়েননি পদত্যাগী মেয়র৷ এদিকে সব্যসাচীর পদ ছাড়া নিয়ে চানাপোড়েনের মাঝেই নিজের মেয়র হওয়ার সুপ্ত বাসনার কথা জানিয়েছিলেন বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী৷ উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ১৫ পর্যন্ত কৃষ্ণাদেবীই ছিলেন বিধাননগর পুরসভায় চেয়ারপার্সন৷

বাম ছেড়ে আপাতত তৃণমূলে রাজারহাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তাপস চট্টোপাধ্যায়৷ সব্যসাচীকে সরাতে যিনি উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছেন৷ মনে করা হচ্ছিল, দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বিদায় নিলে তিনিই হবেন মেয়র৷ তবে, তৃণমূল কাউন্সিলরদের অনেকেই বাম আমলের দোর্দদণ্ডপ্রতাপ ওই নেতাকে বিধাননগর পৌরনিগমের প্রধান মেনে নিতে পারচ্ছেন না৷ ফলে তাপসবাবুকে মেয়র করে দলের ভেতরে ক্ষোভ বাড়াতে চাইছেন না শাসক দলের নেতারা৷ এই পরিস্থিতিতে তাই সব্যসাচীর পরিবর্ত হিসাবে দলের অন্দরেই তাঁর বিরোধী সুজিত বসুকে মেয়র করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস৷

এপ্রসঙ্গে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ‘‘মেয়র কে হচ্ছেন তা নিয়ে দল আমাকে কিছু বলেনি৷ তাই কোনও জল্পনাতে মুখ খুলবো না৷’’ চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘আমি দলের সৈনিক৷ দল যাঁকে দায়িত্ব দেবে তাঁকেই মেনে নেব৷’’ সুজিত বসু মেয়র হলে পরিস্থিতি হবে কলকাতার পুরনিগমের মতো৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শোভন চট্টোপাধ্যায় মেয়র পদ ছাড়লে সেখানে বসেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম৷ পদ গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যেই কলকাতা পুরনিগমের ৮২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ভোটে ডিতে কাউন্সিলর হয়ে আসেন তিনি৷ এর জন্য বিধানসভায় পুর আইনও সংশোধন করে বিল পাশ হয়৷

ফিরহাদ হাকিমের মতো সুজিত বসুও বিধাননগর পুরনিগমের কাউন্সিলর নন৷ তবে মেয়র হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে তাঁকে৷ কোন ওয়ার্ড থেকে তিনি ভোটে লড়বেন তা নিয়েও বিস্তর কানাঘুষো৷ তবে আপাতত সব ছাপিয়ে যাচ্ছে বিধাননগরের মেয়র কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা৷