তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘নকলি মাল বাজারে বেশি দিন চলে না’। এভাবেই বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর (তফঃ) লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরার স্ত্রী প্রীতিকণা সাঁতরাকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ-এর স্ত্রী সুজাতা খাঁ।

হাইকোর্টের নির্দেশে লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ নিজের জেলায় ঢুকতে পারছেন না৷ তাই স্বামীকে জিতিয়ে সাংসদে পাঠাতে তৎপর স্ত্রী সুজাতা খাঁ৷ স্বামীর অনুপস্থিতিতে তিনি এখন রোজই প্রচারের আসরে নামছেন৷ শুক্রবার প্রচারে বেরিয়ে সোনামুখীর পাথরমোড়া বাসুলী মাতার মন্দিরে স্বামী সৌমিত্র খাঁ-এর জয়ের প্রার্থনা করে পুজো দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি৷

সেখানে বলেন, ‘‘আমাকে পেরে উঠতে না পেরে একজন ‘চাইনিজ প্রোডাক্ট’কে বাজারে নামানো হয়েছে। তার কথায় চাইনিজ প্রোডাক্ট হল, ‘আওয়াজ বেশি, কাজ বেশি দিন হয় না।’’ এদিন তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষ, যুব সম্প্রদায় ও মহিলাদের ‘আইকন আর রোল মডেল’ বলেও দাবি করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘মানুষ তো আইকনকেই নকল করে, সাধারণ যাকে তাকে তো নকল করে না।’’ একই সঙ্গে নিজেকে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ দাবিও করেন৷ বলেন, ‘‘মেড ইন ইন্ডিয়ার সঙ্গে মেড ইন চায়নার কোন তুলনা চলে না।’’

এদিন তিনি বিজেপির সৌমিত্র খাঁ-এর জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জানিয়ে আরও বলেন, এখন আমরা বিজেপি কেন্দ্রে আসবে কিনা এনিয়ে ভাবছি না। ভাবছি কতো বেশি আসন নিয়ে মোদীজী ক্ষমতায় ফিরবেন৷ আর তৃণমূল আদৌ দশটা আসন পাবে তো?

বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হৃদ মাঝারে রাখবো ছেড়ে দেব না’। প্রতিটি এলাকায় প্রচার ও বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় স্বতঃস্ফূর্ত জনস্রোত বলে দিচ্ছে, সৌমিত্র খাঁ জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাঁকুড়া শহরের মানুষের উপস্থিতি, উন্মাদনা যেন আগাম বিজয় উৎসবে পরিণত হয়েছিল বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরার স্ত্রী প্রীতিকণা সাঁতরা গত ১৬ এপ্রিল কোতুলপুর এলাকায় স্বামীর হয়ে প্রচার চালান। একই সঙ্গে বুধবার জেলাশাসকের দফতরে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়েও সপুত্র প্রীতিকণা সাঁতরা স্বামীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল প্রার্থী শ্যামল সাঁতরাকে টেলিফোন করা হলে তিনি প্রচারে ব্যস্ত থাকায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।