কলকাতা: রাজ্যের উচ্চ প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ। আর এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর। একই সঙ্গে আগামী তিনমাসের মধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিয়োগে অস্বচ্ছতা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন এই বামনেতা। যদিও উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে কোনও দুর্নীতি হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে স্কুল সার্ভিক কমিশন।

গত কয়েকবছর ধরেই স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ লক্ষাধিক আবেদনকারীর। যার জেরে একাধিকবার বিক্ষোভও দেখিয়েছেন কর্মপ্রার্থীরা। সুজন বলেন, উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে নানা অস্বচ্ছতা ক্রমে বেড়ে চলেছে। প্রার্থীরা আদালতের হস্তক্ষেপ চাইতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে, বিলম্বিত হচ্ছে নিয়োগ প্রক্রিয়া। যার খেসারত দিতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। তারই প্রেক্ষিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বলে জানান বাম পরিষদীয় নেতা।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ২০১২ এবং ২০১৫ সালের টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা শিক্ষক নিয়োগের জন্য যোগ্যতা অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। সিপিএম নেতার দাবি, অনলাইনে আবেদনের তথ্য যাচাই ও ইন্টারভিউ শুরু করতেই তিন বছর কেটে গেল। সফল প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ নিয়েও জলঘোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত যে তালিকা কমিশন প্রকাশ করে, তা ছত্রে ছত্রে ভুল। সুজন বলেন, ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার অভিযোগপত্র কমিশনে জমা পড়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সুজনের দাবি, অনলাইন আবেদনের শেষ তারিখের পরেও ঘুরপথে দরখাস্ত জমা পড়েছে। সংরক্ষণ তালিকাতেও গরমিল রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। টেট পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর হিসেবের ক্ষেত্রে ইচ্ছামতো বাড়ানো বা কমানো হয়েছে। অ্যাকাডেমিক নম্বর যাঁদের বেশি, অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের ইন্টারভিউয়ে নম্বর কমানো হয়েছে এবং কম থাকলে বাড়ানো হয়েছে। সুজন বলেন, যোগ্যতার পরিবর্তে অন্য কোনও অস্বচ্ছ এবং অনৈতিক ব্যবস্থাই কি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে? তাঁর মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওই অস্বচ্ছতার জন্য চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে।